আমি ভাতের গন্ধ পাই

বিজ্ঞাপন: ০১

Type Here to Get Search Results !

বিজ্ঞপ্তি: ০১

বিজ্ঞাপন: ০২

আমি ভাতের গন্ধ পাই


মেয়েটির নাম ফুলি। রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ফুল বিক্রি করে সে। ফুলির বাবা নেই। মারা গেছে। মায়ের সাথে থাকে ফুলি। ফুলির মা মানুষের বাসায় বুয়ার কাজ করে। আর ফুলি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ফুল বিক্রি করে। ফুলিদের বাড়ির উঠোনে একটা বড় বকুল ফুল গাছ আছে। ফুলির বাবা গাছটি লাগিয়েছিল। ফুলি ছোটবেলায় ফুল অনেক পছন্দ করতো। তাই মেয়ের জন্য এই বকুল ফুলের গাছটি লাগিয়েছিলেন তিনি। ফুলি বড় হয়েছে, সাথে সাথে বকুল ফুলের গাছটিও বড় হয়েছে। ফুলির বয়স এখন ১২ বছর। ফুলি প্রতিদিন গাছের নিচ থেকে বকুল ফুল কুড়িয়ে আনে আর ফুলির মা সেই ফুল দিয়ে সুন্দর করে মালা গেথে দেয়। ফুলি সেইসব ফুলের মালা সারাদিন ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে। একদিন ফুলির মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়লো। ফুলির মা এখন বাসার কাজে যেতে পারেনা। ফুলের মালা গেথে দিতে পারেনা। সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকে। ডাক্তার দেখানোর মতো টাকা পয়সাও নাই তাদের কাছে। না খেয়ে উপোস করে দিন কাটছে তাদের।

আরও পড়ুন: 🔹দেয়ালের ওপাশে

ফুলি তখন বকুল ফুল কুড়িয়ে এনে নিজেই মালা গাথলো, তারপর সেইসব মালা বিক্রি করতে রাস্তায় বের হয়ে পড়লো। বড় রাস্তায় গাড়িগুলো যখন সিগন্যালে পরে, তখন ফুলি দৌড়ে গিয়ে তাদের কাছে ফুল বিক্রি করে। এভাবে প্রতিদিন ফুলি ফুল বিক্রি করে যে ক'টা টাকা পায় তা দিয়ে কোনোরকম ডাল-ভাত খেয়ে চলে যায় তাদের দিন। কিন্তু অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে পারেনা ফুলি। একদিন বড় রাস্তায় গাড়িগুলো যখন সিগন্যালে পরলো, তখন ফুলি দৌড়ে গিয়ে কালো রঙের একটা প্রাইভেট কারের জানালার কাছে দাঁড়ায়, সেই গাড়িতে বয়স্ক একজন ভদ্রলোক বসা ছিল। ভদ্রলোক ভার্সিটির একজন প্রফেসর। ফুলি তাকে বলল ফুল নিবেন স্যার? অনেক সুন্দর বকুল ফুলের মালা! আমি নিজের হাতে এই মালা গাথছি স্যার। অনেক সুন্দর মালা! আপনের বিবি সাহেবরে দিলে উনি অনেক খুশি হইবো। প্রসেসর সাহেব ফুলির দিকে তাকিয়ে দেখলেন উষ্কখুষ্ক চুল, পরনে ছেড়া মলিন জামা, রোগা পাতলা মেয়েটির মুখখানা একদম শুকনো দেখাচ্ছে। প্রফেসর সাহেব বললেন, তোমার নাম কি?

আরও পড়ুন: 🔹পরকীয়া

ফুলি শুকনো মুখে উত্তর দিলো, স্যার আমার নাম ফুলি। প্রফেসর সাহেব আবার জিজ্ঞেস করলেন তোমার মুখ এতো শুকনো দেখাচ্ছে কেন? তুমি কি আজ কিছু খাওনি? ফুলি তখন কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, না স্যার, আজ একটাও ফুলের মালা বেচতে পারি নাই। তাই আজ আমার কপালে খাওন জুটে নাই। প্রফেসর সাহেব বললেন, তোমার মা-বাবা নেই? ফুলি বলল, আমার বাপ নাই স্যার। আমি যখন খুব ছোট ছিলাম তখনই আমার বাপজান মারা গেছে। ঘরে বিধবা মা আছে। আমার মা অনেকদিন ধইরা খুব অসুস্থ। মা মাইনষের বাসায় ছুটা বুয়ার কাম করতো। অহন আর কামে যাইতে পারেনা। প্রফেসর সাহেব বললেন, তোমার মাকে ডাক্তার দেখাও। চিকিৎসা করাও, তাহলেই তোমার মা সুস্থ হয়ে যাবে। ফুলি একটা বড় দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলল, তিন বেলা খাওনই জুটেনা আমাগো, আমার মায়েরে ডাক্তার দেখামু কেমনে? এতো টাকা পামু কই?


ফুলির দুঃখের কথা শুনে প্রফেসর সাহেবের চোখ জলে ভিজে গেল। ফুলি বলল, স্যার নিবেন ফুল? নেন না স্যার, আজ সারাদিন কিছু খাই নাই। প্রফেসর সাহেব বললেন, তুমি স্কুলে যাওনা ফুলি? ফুলি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, স্যার ঠিকমতো খাইতে পাইনা। পেটের দায়ে রাস্তায় ঘুইরা ঘুইরা ফুল বেচি। স্কুলে যামু কেমনে? প্রফেসর সাহেব তার মানিব্যাগ থেকে কিছু টাকা বের করে ফুলির হাতে দিয়ে বললেন, ফুলি এই টাকা দিয়ে তোমার মাকে ডাক্তার দেখিও, আর খাবার কিনে খেও। ফুলি বলল, স্যার আমি ভিক্ষা নেই না। আমার মা আমারে ভিক্ষা করতে মানা করছে। প্রফেসর সাহেব বললেন, ঠিক আছে, তোমার সবগুলো ফুলের মালা আমাকে দিয়ে দাও, আমি কিনে নিচ্ছি। এখন টাকাটা নাও। ফুলি খুশি হয়ে প্রফেসর সাহেবের হাত থেকে টাকাগুলো নিলো। তারপর বলল, স্যার আপনি অনেক ভালা মানুষ। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ আপনের ভালা করব।


তারপর ফুলি বলল, আমি গরীব অসহায়, বাবা হারা এতিম মাইয়া। মা ছাড়া এই দুনিয়ায় আমার কেউ নাই। হেই মায়েরও অহন অসুখ হইছে। ফুল বেইচা অহন আমার খাওন জুটে। স্যার আপনেরা ফুলের গন্ধ নিলে আমি ভাতের গন্ধ পাই।

লেখিকা: শামীমা আক্তার।
ঢাকা, বাংলাদেশ।

◈‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা, সম্পদের ক্ষতি, জীবন ও ফসলের ক্ষতি দিয়ে। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা: বাকারা, আয়াত: ১৫৫)

বিজ্ঞাপন: ০৩ [Top]

বিজ্ঞাপন: ০৪ [Below]

বিজ্ঞাপন: ০৫

বিজ্ঞাপন: ০৬