মোঃ রিসালাত মীরবহর।। পৃথিবীতে কেউ জ্ঞানী হয়ে জন্মায় না। আবার কেউ সারাজীবন চেষ্টা করেও জ্ঞানী হতে পারে না। জ্ঞান এমন একটি বিষয় যা খুজে নিতে হয়। আর তাই অনেকেই জ্ঞান অন্বেষণে বেরিয়ে পরেন তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে। আর যারা তাদের শ্রম ও মেয়ার মাধ্যমে ধর্য্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন তারাই একসময় জীবনে সফল হন। তাদের এই সফলতার পেছেনে কাজ করে তাদের অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শীতা। যা তারা খুজে পান জীবনের প্রতিটি পদে পদে। আর এই অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শীতাকে কাজে লাগিয়ে একসময় তিনি হয়ে ওঠেন তুখোর জ্ঞানের অধিকারী।
যুগে যুগে সাহিত্য চর্চাকে মানুষ মনের গহিনে ধারণ করে আসছে। কারণ সাহিত্যের প্রতি মানুষের অগাধ ভালোবাসা আর ভালোলাগা কাজ করে। সাহিত্য সবাইকে আকৃষ্ট করে না। সাহিত্য একটি সাধনা। যা প্রকাশ পায় লেখকের লেখনির মাধ্যমে। আর এটাকে লেখক চর্চার মাধ্যমে অনিন্দ্য সুন্দর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একজন লেখক তার মনের ভাবকে নিজের মত করে প্রকাশ করতে পারে বলেই সাহিত্য মানষের মাঝে এতটা প্রভাব ফেলতে পারে। একজন লেখক তার লেখনির মাধ্যমে এতটা শক্তিশালী হতে পারেন যা ধারণার বাইরে। ফরাসী বিল্পবের কথা আমরা অনেকেই জানি। সেখানে লেখক রুশোর লেখনির ভূমিকার ফলে এই বিল্পব সংগঠিত হয়েছে এটা কারও অজানা নয়। কারণ তিনি তার লেখনির মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা পৌছে দিতে পেরেছিলেন ফরাসিদের কাছে। আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে তৎকালীন সময়ে তার লেখনী ফরাসী বিল্পবকে এমনভাবে বেগবান করে এবং এতোটা গুরুত্ব রাখে যে, এতো বছর পরেও আমরা রুশোর মতবাদ গুলোকে পড়ছি, শিখছি ও জানছি।
মানুষ তার জীবন চলার পথে নানা বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়। কখনো কখনো পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের কাছে তার যে আকাঙ্খা বিদ্যমান থাকে তা সে ভোগ করতে অক্ষম হয়। বিধায় সে হতাশায় ডুবে যায়। আমরা দেখি মানুষ মানুষের অনুভূতি গুলোকে বুঝতে ব্যার্থ হয় কিংবা বুঝেও না বোঝার মতো করে এড়িয়ে যায়। ধরুন আপনার প্রিয়জনকে ভালোবাসেন কিন্তু সে আপনার সাথে প্রতারণামূলক আচরণ করলো। এখন আপনার সে বিষয়টি মানতে কাষ্ট হচ্ছে। আপনি এই মূহুর্তে হতাশ এবং চিন্তিত। এই যে কষ্ট ও ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবাসা না পাওয়ার যে আক্ষেপ সেটা আপনাকে দহন করছে। মানুষের অনুভূতিগুলো তার হৃদয়ে দ্রুত দাগ কাটে। মানুষ তার জীবন নিয়ে একরকম চিন্তা করে কিন্তু বাস্তবতা অন্যরকম হয়ে দাড়ায়। আবার ধরুন পরিবার কিংবা সমাজে আপনাকে কেউ মূল্য দিচ্ছে না। অথবা আপনি যে একজন মানুষ এবং আপনার মধ্যেও যে প্রচুর মেধা আছে অথবা আপনি যে একজন মর্যাদাশীল ব্যাক্তি তা তারা স্বাীকার করতে বাধ্য নয়। কেননা আপনি আপনার মেধার বিকাশ ঘটাতে এখনো সক্ষম হননি। মূলত এসব হতাশা, দুঃখ, কষ্ট, বেদনা, লাঞ্চনা আর বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতেই মানুষ বেছে নেয় অনেকগুলো পথ। তার মধ্যে সাহিত্য চর্চা অন্যতম।
মানুষ আত্ম-মর্যাদাশীল। দেখবেন মানুষ অন্যের কাছ থেকে একটু ভালোবাসা চায় কিংবা একটু সম্মান প্রত্যাশা করে অথবা একটু প্রশংসা আশা করে। এটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু অপর প্রান্তের মানুষটি হয়তো আপনার অনুভূতিটাকে বুঝতে অক্ষম কিংবা বুঝেও আমলে নিচ্ছেনা অথবা নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছেনা। একজন সাহিত্যিক এই সবগুলো বিষয় কে মনে ধারণ করে তার অপ্রকাশিত কথাগুলোকে প্রকাশে সক্ষম হন এবং তিনি অন্য সবাইকে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হন অন্য সবার মতো তিনিও গুরুত্বপূর্ণ এবং সক্ষম একজন আত্ম-মর্যাদাশীল ব্যাক্তি। আর তাই তিনি ডুব দেন সাহিত্যের গভীর সমুদ্রে। তিনি সাহিত্যকে যত বেশি খুজতে থাকেন তত বেশি পৌছে যান গভীর থেকে আরও গভীরে। আমরা জানি সমুদ্রের গভীর থেকে গভীরে রয়েছে মনি ও মুক্ত। যা অনেক মূল্যবান। আর একজন লেখক তার হৃদয়ে ভালোবেসে সাহিত্যকে ঠাই দেওয়ার মাধ্যমে মূল্যবান সেই মনি ও মুক্ত আরহণ করে থাকেন। যা তাকে পরবর্তীতে জ্ঞানের রাজ্যের রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত করে। ফলে একজন লেখক হয়ে ওঠেন গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানী ব্যাক্তি। যা তাকে পরবর্তীতে জীবন চলার পথে প্রতিটি বাকে বাকে সহায়তা করে থাকে। সে খুজে পায় নতুন লেখকদের নতুন প্রতিভাবান মানুষগুলোকে। যারা তাকে সম্মান করে খুবই বিনয়ের সাথে। এতে সে আনন্দ খুজে পায় এবং নিজেকে আরও মর্যাদাশীল ভাবতে শুরু করে। ফলে তার সামগ্রিক আচার আচরণে পরিবর্তন ঘটে। সে হয়ে ওঠে একজন সভ্য বিনয়ী, ভদ্র ও মার্জিত মানুষ।
তবে সাহিত্য চর্চা করা যে খুব সহজ তা কিন্তু নয়। একজন মানুষ তখনই সাহিত্য চর্চায় মনযোগী হতে পারবে যখন তার মধ্যে অগাধ বিশ্বাস ও মনোবল তৈরি হবে। সে বাস্তবতাকে আকড়ে ধরে নির্যাতিত, নিপিরীত জীবন উপভোগ করবে। দুঃখ ও কষ্টের মধ্য দিয়ে তার সময়গুলো অতিবাহিত হবে। সেই সাথে তার সাহিত্য সাধনা করার প্রবল ইচ্ছা মনে জাগ্রত হবে। দুনিয়ার অনেক বিষয় কে সে এড়িয়ে সাহিত্য সাধনায় তার প্রকৃত সময়গুলোকে ব্যায় করবে। যা আমাদের অনেকের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। কারণ সাহিত্য আপনাকে আর্থিক তুষ্টতা প্রদান করবে না। জীবন ও জীবিকা নির্বাহে খুব বেশি সহযোগীতা করবে না। তথাপি আপনি যে সম্মান পাবেন তা কোন ভাবেই কমতি নেই। কারণ আপনার সাহিত্য সাধনার ফলে প্রাপ্ত জ্ঞান সবার মাঝে নেই। হয়তো তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকতে পারে কিংবা গাড়ি, বাড়ি থাকতে পারে। কিন্তু আপনাকে সেও সম্মানি ও একজন শক্তিশালী আত্ম-মর্যাদাশীল মানুষ হিসেবে দেখতে পাবেন।
আর তাই একজন লেখক কিংবা সাহিত্যিক সাহিত্য জগতের গভিরে গিয়ে মূল্যবান মনি ও মুক্তা আরহণের চেষ্টা করেন। যা তকে একজন জ্ঞানী ও শক্তিশালী মানুষ হিসেবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করে। বিশ্বের সকল লেখক ও সাহিত্যিকদের প্রতি রইলো অবিরাম ভালোবাসা।
Risalat Mirbahar
Writer & Editor: Obalardak
E-mail: obalardak@gmail.com,
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]
Writer & Editor: Obalardak
E-mail: obalardak@gmail.com,
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]


