মিতা ও মামুন দম্পতির বিয়ের আজ এক বছর পূর্ণ হলো। তাদের বিয়েটা হয় পারিবারিক ভাবে। মামুন একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে উচ্চপদে চাকরি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স কমপ্লিট করা। দেখতে সুদর্শন ও স্মার্ট। মামুনকে দেখে মিতার মা-বাবার খুব পছন্দ হয়। মেয়ের জামাই হিসেবে মামুনকে বেশ মানাবে। মিতা তখন একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে অনার্সে পড়ছিল। সেই সময় যোগ্য পাত্র পেয়ে মিতার মা-বাবা মিতাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। মহা ধুমধাম করে মিতা ও মামুনের বিয়ে হয়। মিতা দেখতে খুবই সুন্দরী ও স্মার্ট। বিয়ের দিন এই নবদম্পতিকে দেখে বিয়েতে আগতো সবাই বলেছিল দু’জনকে বেশ মানিয়েছে। একেবারে পারফেক্ট জুটি। দেখতে দেখতে বিয়ের এক বছর পার হয়ে গেছে।
মামুন অফিসে যাবার সময় মিতা বলল, আজ আমাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকী। মনে আছে তো? আজ অফিস থেকে একটু তারাতারি বাসায় ফিরো। ছোটোখাটো একটি পার্টির আয়োজন করেছি রাতে। কিছু আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে দাওয়াত করেছি। মামুন বলল, ঠিক আছে। এই কথা বলে তাড়াহুড়া করে মামুন অফিসে চলে গেলো।
আরও পড়ুন: বাবার শীত চাদর।
সন্ধ্যা হয়ে গেছে। মামুন অফিস থেকে এখনও ফেরেনি। মামুনের অফিসের সময় সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। সন্ধ্যা নাগাদ মামুন সাধারণত বাসায় চলে আসে। মিতার খুব টেনশন হতে লাগলো। মিতা, মামুনকে ফোন দিলো। হ্যালো, কোথায় তুমি? ফোনের ওপাশ থেকে মামুন বলল, অফিসের একটা জরুরি কাজ পড়ে গেছে, আমাকে এক্ষুনি ঢাকার বাইরে যেতে হবে। সরি মিতা, আমি বিবাহ বার্ষিকীর পার্টিতে উপস্থিত থাকতে পারবো না। এই বলে মামুন তারাহুরো করে ফোন কেটে দিলো। মামুনের এমন কথা শুনে মিতার খুব মন খারাপ হয়ে গেল। তবুও কি আর করার আছে। অফিসের কাজে আটকে গেছে মামুন। তাই মন খারাপ হলেও বিবাহ বার্ষিকীর পার্টিতে হাসিমুখে সবাইকে আপ্যায়ন করালো মিতা।
পার্টি শেষে সবাই চলে গেলো। একা মন খারাপ করে বসে রইলো মিতা। ঠিক তখন মিতার বান্ধবী শানু মিতাকে ফোন দিলো। ফোনটা রিসিভ করতেই শানু বলল, কিরে কেমন আছিস মিতা? অনেকদিন তোর সাথে কথা হয়না। আমি আমার হাজবেন্ডকে নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছি। আমরা যে হোটেলে উঠেছি সেই হোটেলে তোর হাজবেন্ডকে দেখলাম একজন সুন্দরী মহিলার সাথে। ব্যাপার কি বুঝলাম না? মিতা বলল, মামুন তো ঢাকার বাইরে গেছে অফিসের কাজে। শানু বলল, মিতা তুই বড্ড সহজ সরল। পুরুষ মানুষকে এতোটা বিশ্বাস করতে নেই। তাদেরকে চোখে চোখে রাখতে হয়। তা না হলে বিপদ। একটা কথা বলতে খারাপ লাগছে তবুও তোর বান্ধবী হিসেবে কথাটা বলা উচিত। কারণ আমি তোর ভালো চাই। মিতা বলল, কি কথা? শানু বলল, তোর হাজবেন্ড হোটেলে ঐ মহিলার সাথে একই রুমে থাকছে। কথাটা শুনে মিতার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো।
মিতা ফোন কেটে দিয়ে ঘরের মেঝেতে বসে পড়লো। তারপর অঝোরে কান্না করতে লাগলো। মিতা মনে মনে বলল, মামুনকে কত বিশ্বাস করতাম। ও আমার বিশ্বাস এভাবে ভেঙে দিলো। আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিনা। ছি! ছি! ছি! মামুন এটা কিভাবে করতে পারলে?
পরদিন মিতা মামুনের অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলো মামুন তার অফিসের সুন্দরী এক কলিগের সাথে পরকীয়া প্রেম করে চলেছে। তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক আছে। তারা দু’জন নাকি প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় ট্যুরে যায়। এই কথা শুনে মিতা কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। সে অফিস থেকে সোজা তার বাবার বাড়ি চলে গেলো। হঠাৎ করে মিতাকে চলে আসতে দেখে মিতার মা-বাবা খুব অবাক হলো। মিতাকে বলল, কিরে কোনো খোঁজ খবর না দিয়ে হঠাৎ চলে এলি। তোর চেহারা এমন দেখাচ্ছে কেন? কি হয়েছে? মিতা তখন মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো। তারপর মামুনের সব কুকীর্তির কথা মাকে খুলে বলল।
মিতা বলল, মা আমি ঐ চরিত্রহীনটার সংসার করবো না। বিষ খেয়ে মরে যাবো, তবুও না। ওর সাথে সংসার করা আমার পক্ষে সম্ভব না। কিছুদিন পর মামুন কক্সবাজার থেকে ফিরে আসে। এসে দেখে মিতা বাড়িতে নেই। মামুনের মা-বাবা বলল, মিতা ওর বাবার বাড়ি চলে গেছে। মামুন তখন মিতাকে ফোন দিলো। ফোন রিসিভ করে মিতা বলল, তুমি এভাবে আমার বিশ্বাস ভেঙে দিতে পারলে? অফিসের ঐ সুন্দরী মহিলা কলিগের সাথে কতদিন ধরে চলছে তোমার এসব অবৈধ সম্পর্ক?
ছি! ছি! ছি! আমি ভাবতেও পারিনি তুমি এমন কাজ করবে। মামুন থতমত খেয়ে বলল, শোনো আমি তোমাকে সবকিছু বুঝিয়ে বলবো। প্লিজ তুমি ফিরে এসো। মিতা বলল, কখনও না। তোমার মতো চরিত্রহীনের সংসার করা আমার পক্ষে আর সম্ভব না। তুমি থাকো তোমার সুন্দরী কলিগকে নিয়ে। কিছুদিনের মধ্যে ডিভোর্স লেটার পেয়ে যাবে। এই কথা বলে মিতা ফোন কেটে দিয়ে অঝোরে কান্না করতে লাগলো।
পরকীয়া প্রেম বর্তমান সামাজিক ব্যাধি। পরকীয়ার কারণে অনেক সংসার ভেঙে যাচ্ছে। অনেক সমস্যা ও অপরাধমুলক কর্মকান্ড হচ্ছে পরকীয়ার কারণে। এমনকি নিজের সন্তানকে পর্যন্ত কেউ কেউ হত্যা করছে। পরকীয়া নামের এই পাপের কারণে পরিবারগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে। তাই আসুন পরকীয়া কে না বলি আর এসব বাজে মানসিকতাকে বন্ধ করি। পরকীয়া মুক্ত সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ি।
লেখিকা: শামীমা আক্তার
ঢাকা, বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: মুমিনের পতন।
আরও পড়ুন: শেষ বিদায়ের কালে।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে: ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন [Click]।
📌 সম্ভব হলে পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন।
✅আজ এ পর্যন্তই, ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
Writer & Editor: Obalardak
E-mail:obalardak@gmail.com
Barishal Sadar, Barishal, BangladeshE-mail:obalardak@gmail.com
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]


.png)