মোবাইলের অত্যাধিক ব্যবহারে মারাত্মক ঝুঁকিতে শিশু কিশোররা

বিজ্ঞাপন: ০১

Type Here to Get Search Results !

বিজ্ঞপ্তি: ০১

বিজ্ঞাপন: ০২

মোবাইলের অত্যাধিক ব্যবহারে মারাত্মক ঝুঁকিতে শিশু কিশোররা


আধুনিক যুগে মোবাইল একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। যা ছাড়া বর্তমানে চলা অসম্ভব প্রায়। এই যন্ত্রটির সুবাদে আমরা দেশে বিদেশে বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকি। মোবাইল নামক এই যন্ত্রটির সুবিধা শহর ছাড়িয়ে এখন গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও পৌঁছে গেছে। প্রতিদিনের যোগাযোগ ছাড়াও মানুষ এ যন্ত্রটির মাধ্যমে ইন্টারনেট সুবিধা উপভোগ করছে। যার ফলশ্রুতিতে মানুষ প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে বিভিন্নভাবে উপকৃত হচ্ছে। 

গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষরাও এখন কৃষি, শিল্প, ব্যবসা, বানিজ্য ও অনলাইন ভিত্তিক কেনাকাটা, খেলাধুলা, নাটক, সিনেমা সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখতে পাচ্ছে। এছাড়া শিশু কিশোর ও তরুণরা যার যার প্রয়োজন অনুযায়ী বিনোদন উপভোগ করছে। আর এর মাধ্যমে মোবাইল অপারেটর গুলো তাদের গ্রাহকদের ধরে রাখতে নানা সুবিধা সংবলিত প্যাকেজ অফার ঘোষণা করছে। এতে করে বিশাল সংখ্যার গ্রাহকদের সুবিধা প্রদান করতে গিয়ে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গুলোর মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হচ্ছে। যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ভুমিকা রাখছে।

তবে বর্তমানে মোবাইলের অত্যাধিক ব্যবহারের ফলে এ যন্ত্রটি মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক একটি সমস্যা হিসেবে প্রতিয়মান হচ্ছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সী স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীরা এ যন্ত্রটির মারাত্মক অপব্যবহার করছে। সোস্যাল মিডিয়ার অত্যাধিক ব্যবহারে ইতিমধ্যে এশিয়ায় আমরা তৃতীয় স্থান দখলে নিয়েছি। এছাড়া আমরা বাচ্চাদের ছোট বয়সেই ভাত খাওয়ানোর ছলে মোবাইলের গেইমস খেলার পথকে সুগোম করে দেই। পরবর্তীতে ওই বাচ্চা মোবাইল ছাড়া খাওয়ার অনিচ্ছা প্রকাশ করলে আধুনিক এই ডিভাইসটি তার হাতে তুলে দিতে আমরা অনেকটাই বাধ্য হয়ে যাই। এতে করে বাচ্চারা মোবাইলের প্রতি অতি মাত্রায় আসক্ত হয়ে বাস্তব জগৎ থেকে ছিটকে পড়ে।

অনেক মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন বাচ্চাদের মোবাইলের প্রতি এমন আসক্তির ফলে তাদের সুস্থ্য মানুষিক বিকাশের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে। এছাড়া তারা অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে মানুষিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। যেমন: একটুতেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্চে, খাওয়া দাওয়ায় অনীহা, একই স্থানে অধিক সময় পাড় করা, মোবাইলের কারনে বাস্তব বিষয়গুলো থেকে সড়ে যাওয়া, পিতা-মাতার সাথে কম সময় কাটানো, পড়াশুনায় অমনযোগী, কম কথা বলা সহ নানা বিষয়গুলি আমরা দেখতে পাচ্ছি।

এছাড়া মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগের সুবাদে ফেইসবুক, গুগল কিংবা ইউটিউব সহ নানা সাইটে শিশু কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপকর্মে। যা শিশু কিশোরদের সুস্থ্য মানুষিক বিকাশের পথে বেশ প্রভাব ফেলছে। শিশু কিশোররা মাঠে শরীর চর্চা ও সবার সাথে খেলাধূলার পরিবর্তে আসক্ত হয়ে পড়ছে মোবাইলে। ফলে সে অনেকটাই একাকীত্ব জীবনের দিকে ঝুকে পড়ছে। মোবাইলের এই আসক্তি তাকে দিনে দিনে এক ধরনের অবাস্তব মূখী করে তুলছে। যা তার আচার ব্যবহারে এক সময় পরিলক্ষিত হচ্ছে। মনোবিজ্ঞানী সহ অনেক পরিবেশ বিশেষজ্ঞরাও এ বিষয়ে বহুবার সতর্ক করেছেন। এর পাশাপাশি তারা শিশু কিশোরদের মোবাইল ব্যবহারে অভিভাবকদের অধিক সচেতন হতে বলেছেন। তাছাড়া পরিবেশবীদরা মোবাইলের উচ্চ রেডিয়েশন মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুকিতে রয়েছে শিশু কিশোররা।

আমরা প্রায়শই দেখতে পাই উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরীরা স্কুল-কলেজ ফাকি দিয়ে যেখানে সেখানে মোবইল নিয়ে পড়ে আছে। যা তার শিক্ষা জীবনেও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। এছাড়া রাত জেগে সোস্যাল মিডিয়া কিংবা পর্ণ সাইটে সময় পাড় করছে অনেকেই। যা তার দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক কাজ কর্মে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি সেটা হচ্ছে মোবাইলের এই মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের কে কাছের মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। এছাড়া মোবাইল রেডিয়েশন আমাদের স্বাস্থ্যের নীরব ক্ষতি করে চলেছে। হয়তো আমরা বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি ভাবিনা। তবে দিনে দিনে মানুষের মোবাইলের প্রতি আকৃষ্টতার যে ভয়াবহতা তা সত্যিই বেশ চিন্তার বিষয়।

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রতি বছর মোবাইলে সেল্ফি তুলতে গিয়ে অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। যা দেশটিতে প্রায়ই ঘটে থাকে। এছাড়া অনেকে লাইভ করতে গিয়ে দূর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে। তাছাড়া মোবাইলে ইন্টারনেটের সুবাদে সোস্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত মানুষের সাথে না জেনেই বন্ধুত্ব করতে গিয়ে ঘটছে নানা অপ্রিতিকর ঘটনা। এতোকিছুর পরেও মোবাইল আমাদের জন্য জরুরী একটি বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। কারন আমরা তাৎক্ষনিক আমাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধব সহ সবার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারছি।

 এটি নিঃস্বন্দেহে একটি ভালো দিক। তবে মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার কিংবা অপব্যবহার করাটাও আমাদের জন্য ক্ষতিকর একটি বিষয়। তাই আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে আমরা মোবাইলের অপব্যবহার না করি কিংবা মোবাইল আসক্তিতে না ভুগি। সবচেয়ে ভালো হয় প্রকৃতির মাঝে থাকা, প্রকৃতি মানুষকে নতুন দিনের সূচনা করে। আমাদের নতুন কিছু ভাবতে শিখায়। আর মোবাইল মানুষের দু’হাত ও দু’চোখকে বন্ধি করে রাখে তার স্বচ্ছ কাচের মধ্যে যেখানে আটকে যায় তার ব্রেইন। এটা কেবল মানুষের মস্তিস্কের চিন্তা করার ক্ষমাতা কে ধ্বংস করে না বরং মানুষের অমূল্য সম্পদ দৃষ্টি শক্তিরও ক্ষতি করে।

এছাড়া মোবাইল মানুষের মূল্যবান সময়গুলোকে নষ্ট করে। তাই আসুন আজই মোবাইল ব্যবহারে সচেতন হই। কথাবলার এই যন্ত্রটিকে শিশুদের হাতের নাগালের বাইরে রাখি। তাদের ভালো গল্পের বই পড়তে দেই। প্রকৃতির মাঝে তাদের বিনোদনের ব্যবস্থা করি। আমরা মোবাইল ব্যবহার করবো তবে খেয়াল রাখবো এটা যেন আসক্তিতে না পৌছায়।

লেখক: মোঃ রিসালাত মীরবহর।
সম্পাদক: অবেলার ডাক, বরিশাল, বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন: ০৪ [Below]

বিজ্ঞাপন: ০৫

বিজ্ঞাপন: ০৬