মোঃ রিসালাত মীরবহর।। আমাদের প্রতিটি পরিবার হোক সুখের, প্রতিটি সমাজ হোক সুন্দর আর আমাদের দেশ হোক সমৃদ্ধির। সাফল্য বয়ে আনুক আমাদের দেশের প্রতিটি তুরুণ-তরুণী। এমনই প্রত্যাশা আমাদের সকলের। একজন মেধাবী তরুণ বা তরুণী যখন আমাদের দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনে তখন গর্ব হয় আমাদের। এতে করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হয় বিশ্ব দরবারে। সবার ভালোবাসায় সিক্ত হয় সে। তাই আগামীর বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই এসব তরুণ-তরুণী যাতে মাদক নামক ঘৃণিত বিষয়টির প্রতি আসক্ত না হয় তার জন্য আজই আমাদের সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরী।
মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। যাকে আমরা আমাদের জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি। বর্তমানে আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা মাদকের ভয়াল গ্রাসের স্বীকার হচ্ছে। যা আমাদের জন্য একটি মারাত্মক পরিস্থিতির তৈরি করছে। বিশেষ করে এসব উঠতি বয়সী তুরুণ-তরুণীরা মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
উঠতি বয়সী এসব তরুণ-তরুণীদের মাদকাসক্ত হওয়ার পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে আপতদৃষ্টিতে মাদকের প্রতি তরুণ-তরুণীদের ঝুকে পড়ার প্রবণতা হিসেবে আমার কাছে বেশ কিছু কারণ দায়ী বলে মনে হয়। ছোট বেলায় আমরা প্রায়ই মুরব্বীদের কাছে শুনতাম, সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। উঠতি বয়সি এসব তরুণ-তরুণীদের মাদকসাক্ত হওয়ার পিছনে প্রথম কারণ হিসেবে আমরা সঙ্গ দোষটাকে সবচেয়ে বেশি দায়ী করতে পারি। সেক্ষেত্রে খুব কাছের সহপাঠী কিংবা বন্ধু-বান্ধবকে মাদক বিস্তারে প্রবল ভূমিকা রাখার বিষয়টি আমরা অস্বীকার করতে পারিনা। যারা আগে থেকেই কোন না কোন ভাবে মাদকের সাথে পরিচিত বা নিয়মিত মাদক সেবন করে আসছে কিংবা মাদক ব্যবসায় জড়িত রয়েছে।
এমন অসৎ ও অসুভ শুভাকাঙ্খি কিংবা বন্ধু-বান্ধবের সংস্পর্শে এসে কৌতুহলবশত বিরাট অংশের এসব উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের মাদকাসক্ত হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হয়। এমন কাছের বন্ধু-বান্ধব কিংবা শুভাকাঙ্খিরা অন্যান্য তরুণ-তরুণীদের মাঝে মাদক গ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন ভাবে উৎসাহী করে তুলছে। যা এক সময় পারিবারিক অশান্তির সৃষ্টি করছে। তবে যেসব পরিবারে পিতা-মাতার সাথে দাম্পত্য কলহ অথবা সম্পর্কের অবনতি কিংবা ঝগড়া-বিবাদ চলছে যা সন্তানের সামনেই সংঘটিত হচ্ছে, এমন পরিবারের সন্তানদের সবচেয়ে বেশি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। কারণ এমন পরিবার থেকে তরুণ-তরুণীদের দূরত্ব তৈরি হওয়ার ফলে তাদের মধ্যে পারিবারিক হতাশা বিরাজ করে। যা পরবর্তীতে তাদের মাদকাসক্ত হওয়ার প্রবণতাকে অনেক বেশি উৎসাহী করে তোলে।
এছাড়া উঠতি বয়সী এসব তরুণ-তরুণীদের বেপরোয়া জীবন যাপন, খারাপ সহপাঠী কিংবা বন্ধুদেরকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করা অথবা অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা, রিলেশন ব্রেকাপ হওয়ায় জীবনের ছন্দপতনের কারণে কিংবা বেকারত্ব থেকে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়া ইত্যাদি নানা বিষয়গুলোকে মাদকাসক্তের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। মাদক গ্রহণের ফলে তুরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধের প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়। কারণ মাদকের অর্থ যোগাতে তারা নানা সামাজিক অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে।
এমনকি তারা মাদকের টাকা যোগার করতে ঘরের আসবাব পত্রও বিক্রি করে দিতেও পিছুপা হয়না। সব মিলিয়ে পরিবারে তৈরি হয় এক অসস্তিকর পরিস্থিতি কিংবা অশান্তি। সামাজিক ভাবে সে হয়ে ওঠে বেপরোয়া ও দোষী। তাই এমন মাদকাসক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। ফলে একজন মাদকসেবী হয়ে পড়ে পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের কাছে অপরাধী। অন্যদিকে অতিরিক্ত মাদক গ্রহণের ফলে ঘটতে পারে মৃত্যুর মত ঘটনাও। এছাড়া নিয়মিত মাদক গ্রহণের ফলে একজন মাদক সেবীর শারীরীক ও মানষিক অবস্থারও চরম অবনতি ঘটতে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় ভয়ানক মাদক গ্রহণের ফলে নানা রোগ বাসা বেধে মৃত্যুর মত ঝুকি তৈরি হচ্ছে।
তরুণ-তরুণীরা যাতে মাদকাসক্ত হতে না পারে সেজন্য আমরা পরিবার হিসেবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে পারি। মাদাকাসক্ত থেকে তরুণ-তরুণীকে বাঁচাতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া আমাদের জন্য খুবই জরুরী। বিশেষ করে সন্তানের সাথে যথাসম্ভব পারস্পরিক সম্পর্ককে সুন্দর করা। তাদের সাথে যে কোন বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা। তারা কার সাথে মিশে, কোথায় যায়, কি করে এসব বিষয়ে নিয়মিত খোজ খবর নেয়া, সন্তান কে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে তার মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতির সৃষ্টি করা। যাতে সে বুঝতে পারে কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায়।
সোস্যাল মিডিয়ার পরিবর্তে তাকে ভালো ভালো বই পড়তে অভ্যস্ত করা, তাকে নিয়ে প্রায়শই ঘুড়তে যাওয়া, এছাড়া তার লাইফ স্টাইলের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা, বিভিন্ন রকম সামাজিক সেচ্চাসেবী সংগঠনের সাথে কাজ করতে দেওয়া, নিয়মিত খেলাধূলায় তাদের উৎসাহ প্রদান ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তার ভালো সহপাঠী কিংবা বন্ধু-বান্ধব নির্বাচনে পরিবার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা। এছাড়া তাদের মধ্যে যাতে হতাশা তৈরি না হয় সেজন্য পারিবারিক সমস্যা কিংবা বৈষম্যগুলোকে দূর করা।
এতকিছুর পড়েও যদি কেউ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে তবে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর নিয়মিত ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া। মাদক থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী তার কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করা। তার চিকিৎসার পাশাপাশি কারিগরী ভাবে দক্ষ করে তাকে গড়ে তোলা এবং তার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। যাতে সে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে এবং মাদকের মত একটি খারাপ বিষয়ের সাথে যাতে ভবিষ্যতে সে আর কখনো সম্পৃক্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা।
মনে রাখবেন মাদক শুধুমাত্র একটি পরিবারের জন্যই ক্ষতির কারণ না বরং এটি সামাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। কারণ আজকের তরুণ-তরুণীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারা তাদের মেধা আর সক্ষমতা দিয়ে আমাদের দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনুক। শিক্ষা ও সমৃদ্ধির মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হয়ে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করুক। তাই আসুন মাদকের বিস্তার রোধে আজই প্রতিজ্ঞা করি- মাদক কে না বলি, সুখী সমৃদ্ধ জীবন গড়ি।
Risalat Mirbahar
Writer & Editor: Obalardak
E-mail: obalardak@gmail.com,
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]
Writer & Editor: Obalardak
E-mail: obalardak@gmail.com,
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]


