নীড়ার চোখে জল

বিজ্ঞাপন: ০১

Type Here to Get Search Results !

বিজ্ঞপ্তি: ০১

বিজ্ঞাপন: ০২

নীড়ার চোখে জল


আজ নীড়া একটু বেশিই চিন্তিত। সকাল থেকেই কেবল পায়চারি আর বির বির করে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে টেনশনে ওর মাথা দিয়ে আগুন বের হচ্ছে। আমাদের একমাত্র মেয়ে সরকারি মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। আজ ওর ভর্তি। নীড়া সকাল থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেয়েকে নিয়ে কলেজে যাবে। নীড়ার অনেক দিনের ইচ্ছে তার মেয়ে রোদেলা ডাক্তারি পড়ুক। আর তাই নীড়া সব সময় রোদেলার পিছনেই পড়ে থাকে। গত ১৬ বছরে নীড়া কখনো রোদেলা কে এক মুহূর্তের জন্যও হাতছাড়া করেনি। একটুও অযত্ন করেনি।

আজ মনে হচ্ছে নীড়া সকাল থেকেই অনেক ব্যস্ত। রোদেলার জন্য সকালে নিজ হাতে পছন্দের নাস্তা বানিয়েছে। পরোটা আর গরুর কলিজা ভোনা। রোদেলা এটা খুব পছন্দ করে খায়। নীড়া আজ এতটাই ব্যস্ত যে, মনে হচ্ছে তার সাথে আমার দেখা হওয়া ১৬ বছর আগের সেই তরুণী। যাকে প্রথম দেখায় ভালোবেসে ফেলেছিলাম। নীড়া অবশ্য আমাকে প্রথম দেখায় ততটা পছন্দ করনি যতটা আমি পছন্দ করেছিলাম।

আজ সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। রোদেলা টেবিলে নাস্তা করছে। নীড়া তার রুমে সম্ভবত রেডি হচ্ছে। আজ একটু বেশি সময় নিচ্ছে। সাধারণত এত সময় লাগার কথা না। রোদেলার নাস্তা প্রায় শেষ। কিন্তু নীড়া এখনো তার রুম থেকে বের হচ্ছে না। অনেক সময় পর নীড়া বের হলো। আমি তো অবাক। সম্ভবত আজ নীড়াকে একটু বেশিই সুন্দর লাগছে। মনে হচ্ছে গত ১৬ বছরে নীড়ার দিকে আমি ভালো করে তাকাইনি।

খুব সুন্দর আকাশী রঙের একটি শাড়ি পড়েছে। কপালে একটি কালো রঙের টিপ। বেশ মানিয়েছে নীড়াকে। বিয়ের পর নীড়া কখনো বোরকা ছাড়া কোথাও যায়নি। আমি ওকে সব সময় পর্দা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছি। আর নীড়াও তাতে কখনো কোন আপত্তি করেনি। আমি ঠিক যেভাবে বলেছি ঠিক সেভাবেই ও চলেছে।

নীড়া- ওগো শুনছো, একটু দেখনা আমার সব ঠিকঠাক আছে কিনা। কেমন লাগছে আমায়?
আতিক- হ্যাঁ বেশ মানিয়েছে আজ তোমায়। আজ যেন নীড়া সব নিয়ম ভাঙতে চলেছে। বিয়ের পর কখনো কপালে টিপ পড়েনি। তেমন সাজুগুজু করেনি। কিন্তু আজ সে এত উৎসাহী যে, নিয়মের কোন তোয়াক্কা করছে না।

আমি আতিক। পেশায় একজন ব্যাংকার। নীড়া, রোদেলা আর আমি। এই নিয়েই আমাদের সুখের সংসার। গত ১৬ বছরের মধ্যে এত খুশি কখনো নীড়াকে হতে দেখিনি। যতটা আজ দেখছি। মেয়েকে সে তার নিজের মতো করে তৈরি করেছে। মেয়ে রোদেলা কখনো মায়ের বিরুদ্ধে যায়নি। এমনকি প্রিয় জিনিস মোবাইলটি যখন তার মা নিয়ে যায় তখনো মেয়ে রোদেলা কখনও আপত্তি করে না। রোদেলা যেন মা নীড়ার সব নিয়মগুলোকেই দীর্ঘদিন ধরে ঠিকঠাকভাবে পালন করে আসছে।

নীড়া- কি আশ্চর্য তুমি এখনো রেডি হওনি। আমি সেই কখন থেকে রেডি হয়ে আছি।
আতিক- আমাকেও যেতে হবে? না গেলে হয় না?
নীড়া- আজ মেয়ের মেডিকেলে ভর্তি। আর তুমি যাবে না? সে কি করে হয়?
আতিক- আচ্ছা ঠিক আছে আমি রেডি হচ্ছি।

চলমান ....

লেখক: মোঃ রিসালাত মীরবহর।
সম্পাদক: অবেলার ডাক, বরিশাল, বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন: ০৩ [Top]

বিজ্ঞাপন: ০৪ [Below]

বিজ্ঞাপন: ০৫

বিজ্ঞাপন: ০৬