‘আল্লাহু আকবার’ একমাত্র জাত-সিফাত ও আইন, বিধান, হুকুমদানের বড়ত্ব, মহত্ব, কর্তৃত্ব মহান আল্লাহ তায়ালারই। ‘লা-ইলাহা ইল্লাহু’ আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুমদাতা, আদেশদাতা, আইন দাতা ও বিধানদাতা কেউ নেই। অর্থাৎ সৃষ্টি যার আইন চলবে তাঁর। ব্যক্তি থেকে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল পর্যন্ত একমাত্র রবের বিধান অনুযায়ী চলবে, কোনো মানবরচিত মতবাদ নয়। মানবরচিত মতবাদগুলো (যেমন: সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র, ধর্ম-দর্শন ইত্যাদি)। এসবের অনুসারীগণ আল্লাহর শাশ্বত বিধানদ্রোহী। সূরা মায়েদার ঘোষণা অনুযায়ী এরা কাফির, ফাসিক ও জালিম।
ওয়ালিল্লাহিল হামদ: ‘তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? [সূরা: আর রাহমান]। এই ঘোষণার মাধ্যমে রবের অগণিত নিয়ামতের শোকরিয়া আদায় করা হচ্ছে। কুরবান আত্মসংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মশুদ্ধি, ভুলসংশোধন, পূর্ণতা, পুন্যতার্জনের মাধ্যমে তাক্বওয়াভিত্তিক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল গঠনে ত্যাগের শিক্ষা দেয়। হয়রত ইব্রাহীম (আ:) যেভাবে জান-মানের বিনিময়ে রবের সন্তুষ্টি অর্জনে বদ্ধপরিকর ছিলেন সে ত্যাগের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিকে বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্যই এই প্রতিকী কুরবান। কুরবানির মাধ্যমে শাশ্বত জীবন বিধান প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে ত্যাগের পরিপূর্ণ বার্তা দেয়া হচ্ছে।
সর্বক্ষেত্রে এই দ্বীন কায়েমের জন্য মুমিনদের শীশাঢালা প্রাচীরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকো, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইও না [সুরা-আল ইমরান: ১০৩] মুসলিম মিল্লাতের ঐক্যবদ্ধতার মূলভিত্তি হচ্ছে জামায়াতবদ্ধ জীবনযাপন। আর এই জায়াতবদ্ধ জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক ভিত্তিসমূহের মধ্যে অন্যতম ভিত্তিদ্বয় হচ্ছে হজ্ব ও ঈদের জামায়াত। এসবের মাধ্যমে মুসলিম উম্মার ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, দিকনির্দেশনা, সুদৃঢ়শপথ ইত্যাদি মৌল শিক্ষার মাধ্যমে তাক্বওয়াভিত্তিক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল গঠনে হযরত ইব্রাহীম আ: এর ত্যাগের বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
তাই ঐক্যের মহাসম্মেলন তথা হজ্ব ও ঈদ জামায়াতে যাওয়া-আসার সময় মুমিনদের তাকবিরের মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ, কর্তৃত্ব, ক্ষমতা, আইন-বিধান-হুকুম-দ্বীনের বড়ত্বের চূড়ান্ত বিপ্লবী ঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এই তাকবির মুখে স্বীকার, অন্তরে বিশ্বাস ও কার্যে রূপান্তরের মাধ্যমে মুমিনরা দুনিয়াতে ঐক্যবদ্ধভাবে জীবনযাপন করবে এবং জাহেলিয়াতের সকল যড়যন্ত্রও ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করবে। এটিই কুরবানের প্রকৃত শিক্ষা।
লেখক: মোঃ নূরুল করিম।
কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী, বাংলাদেশ।
Join Us:
অবেলার শপ: [Click]
আরও পড়ুন: ছোটঘর [Click]
টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হতে: অবেলার ডাক [Click]
হোয়াটস্ এ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হতে: অবেলার ডাক [Click]
আরও পড়ুন: অবেলার ডাক সম্পাদক পরিচিতি [Click]
প্রতিদিন কবিতা লিখতে: অবেলার ডাক সাহিত্য পরিষদ [Click]
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে: ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন [Click]
নিয়মিত ভিডিও কনটেন্ট পেতে: ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন [Click]
আসুন সুস্থ ধারার সাহিত্য চর্চায় সবাই সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেই [Click]
[লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করে সবাইকে পড়ার সুযোগ করে দিবেন। আজ এ পর্যন্তই, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। সুখময় হোক আপনার আগামী অনাগত দিনগুলো। আমাদের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ]
[আপনার সন্তানকে স্কুলে পাঠান। ধর্মীয় চর্চা অব্যাহত রাখুন। সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন। সৎ ও সাধারণ জীবন যাপন করুন। অনলাইন জুয়া ও মাদকমুক্ত থাকুন। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন। দূর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ুন]
[Risalat Mirbahar] [Writer & Editor: Obalardak] [E-mail: obalardak@gmail.com] [Barishal Sadar. Barishal. Bangladesh] [Mobile: +8801516332727 (What's App)] [Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]

