
মোঃ রিসালাত মীরবহর।। আজকের দুনিয়ার মানুষ যে সব সুবিধাগুলো পাচ্ছে অতীতের মানুষ তা কখনও পায়নি। যুগের পর যুগ শতাব্দির পর শতাব্দি মানুষ তাদের প্রয়োজনে ধীরে ধীরে জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণা বা চর্চার মাধ্যমে আজকের এই আধুনিক যুগে প্রবেশ করেছে। যা একদিন কিংবা এক বছর কিংবা এক যুগ কিংবা এক শতাব্দীতে হয়নি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিস্থিতে সময়ের প্রেক্ষাপটে সময়ের প্রয়োজনে মানুষ তাদের নিজেদের প্রয়োজনে সবকিছু নতুন করে ঢেলে সাজিয়েছে। বিচরণ করেছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায়। উন্নতি ঘটিয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, বিজ্ঞান সহ নানা বিষয়ে। মানুষের এই উন্নতির পিছনে রয়েছে হাজারো গল্প। সবকিছুকে পিছনে ফেলে মানুষ তাদের সুবিধার্থে করেছে নতুন এক যুগের সূচনা।
বলছিলাম জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা উন্নতির কথা। আজকের দুনিয়ায় এত এত উন্নতি আর আবিস্কারের পরও আমাদের নীতি নৈতিকতার জায়গাটি যেভাবে উন্নত হওয়ার কথা ছিল সেভাবে হয়েছে কিনা তা অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে হানাহানি, মারামারি, যুদ্ধ, অপরাধ আর বেপরোয়া কার্যক্রম মানুষকে এতোটুকু নিরাপত্তা দিতে পেরেছে কিনা তা ভাবনার বিষয়। আবিস্কার আর জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি আমাদের যেমন একদিকে সুফল বয়ে এনেছে অন্যদিকে করেছে অনিরাপদ। আজকের এই উন্নতির পিছনে অতীতের মানুষগুলো যে শ্রম, মেধা আর ধর্য্য রেখে গেছেন তা নিঃস্বন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
তবে এত এত উৎকর্ষতা আর আবিস্কারের পরেও আমাদের নৈতিকতার জায়গাটি যেন রয়ে গেছে অনেকটাই অধরা। মানুষে মানুষে হানাহানি আর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলো যেন তারই প্রতিচ্ছবি। দিন যত গড়াচ্ছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি তত বেগবান হচ্ছে। আর মানুষ বেছে নিচ্ছে দিন দিন নৈতিকতার পরিবর্তে নতুন নতুন অপরাধের পথ। দেশে দেশে বাড়ছে অপরাধের মাত্রা। আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে এসব অপরাধীদের কখনও কখনও শাস্তির বিধান করা হলেও অধিকাংশ সময় পার পেয়ে যাচ্ছে অনেকেই। ফলে নতুন করে অপরাধের সূচনা হচ্ছে। আর এতে করে সাধারণ মানুষ হচ্ছে এসব অপরাধীদের ভোক্তভূগী। বিভিন্ন দেশের বিচারহীনতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না থাকা, আইনি জটিলতা, দুর্নিতি, রাজনৈতিক সংকট সহ নানা বিষয়ে ফাক ফোকর থাকার কারণে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
ধরুন আপনি যদি এসব অপরাধিদের জন্য গোটা পৃথিবীর একটি অংশ কারাগারে পরিণত করেন তবুও কি অপরাধ কমবে। আমি বলবো কমবে না। কারণ রাস্ট্রীয় আইন দ্বারা যদি অপরাধ কমানো যেত তবে আজকের দুনিয়ায় এত এত মাদাকাসক্ত, এত এত অপরাধী, এত এত হত্যাকারী, এত এত দুর্নীতিবাজ কখনও বৃদ্ধি পেত না। বিশ্বের প্রতিটি দেশেই কোন না কোন ভাবে অপরাধীদের বিচার করা হয়। কিন্ত তাতে করে কি অপরাধ কমানো যায়? একবার ভাবুন তো রাস্ট্রের এই বিচার প্রক্রিয়া যদি না থাকতো তবে অবস্থা কেমন হতো? রাস্ট্রীয় আইন আছে, আইনের প্রয়োগও আছে তাহলে অপরাধ কমছে না কেন? বরং অপরাধীরা নতুন নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের অপরাধকে সংঘঠিত করে যাচ্ছে।
বলছিলাম নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয় নিয়ে। একমাত্র ঐশ্বরিক নিয়মগুলো পারে নৈতিক অবক্ষয়কে ঠেকাতে। মানুষ যদি তার মনুষ্যত্বকে আগলে রাখতে পারে, সত্যিকারের বিবেক কে জাগ্রত করতে পারে তবে তার জন্য অন্যায় পথে পা বাড়ানো মোটেই সহজ কাজ হয় না। এজন্য চাই ধর্মীয় চর্চার গুরুত্বকে উপলব্ধি করে তা সাধ্য অনুযায়ী চর্চা করা। বিশেষ করে আমাদের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতিগুলো দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে মানুষের আচার আচরণে অনেক পরিবর্তন আসছে। যা মানুষকে কখনও কখনও বেপরোয়া করে দিচ্ছে, অপরাধী বানিয়ে দিচ্ছে এমনকি অন্যায় পথে পা বাড়াতে সহায়তা করছে। ধর্মীয় অনুশাসনগুলো হচ্ছে পর্দার মতো। যা মানুষকে নৈতিকভাবে সুরক্ষা প্রদান করে। ফলে মানুষ হয় নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, মার্জিত ও পরোপকারী। ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি। যা আপনাকে সবদিক থেকে সব্বোর্চ সুরক্ষা প্রদান করবে। সামাজিক যেসব নৈতিক অবক্ষয় রয়েছে সেগুলো থেকে নিরাপদ রাখবে। অন্যায় পথে পা বাড়াতে গেলে আপনার বিবেক কে জাগ্রত করবে। পৃথিবীর সব্বোর্চ আদালত হচ্ছে বিবেক। আর এই বিবেকের পতন হলে স্বীয় মানব আত্মারই পতন হয়। কাজেই এই বিবেক কে যদি আপনার জাগ্রত রাখতে হয় তবে ইসলামের কোন বিকল্প নেই।
আজকের দুনিয়া যেভাবে উন্নত হয়েছে সেভাবে সকল মানুষের মনুষ্যত্বের উন্নয়ন ঘটেনি। মানুষ চাইলেই মানুষের অধিকারগুলো কে হরণ করছে। যা পৃথিবীর কোন আইন দ্বারা সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা যত আধুনিক হচ্ছি তত আমরা আমাদের ধর্ম থেকে বের হয়ে আসছি। আমরা আমাদের অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে মোটেই চিন্তিত নই বরং আমরা আমাদের বর্তমান সময়কে উপভোগ করছি। সর্বশক্তিমান ও পরম দয়ালু মহান আল্লাহ রাববুল আলামীন পবিত্র কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন- كُلُّ نَفْسٍ ذَآىِٕقَةُ الْمَوْتِ ؕ
অর্থাৎ প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। যে কোন প্রাণীই হোক তার উপর মৃত্যু একবার আসবেই। ভালো হোক খারাপ হোক তাকে মরতে হবে। যদি তাই হয় তবে কেন আমরা আমাদের কে সেভাবে প্রস্তুত করছি না? কেন আমরা নিজেদের কে সকল পার্থিব পাপাচার থেকে মুক্ত রাখছি না। মৃত্যু অবধারিত এটা জেনেওে কেন আমরা আমাদের নিজেদের পরিবর্তন করতে পারছি না? কেনই বা আমরা মানবিক হতে পারছি না? কেনইবা আমরা আমাদের নিজ স্বার্থে অন্যায় পথে পা বাড়াচ্ছি? ইসলাম হচ্ছে অন্তরের পর্দা। যা আপনাকে সবদিক থেকে সুরক্ষা প্রদান করবে। ইসলাম আপনাকে দুনিয়ায় যেমন সম্মানিত করবে ঠিক তেমনি আখেরাতে করবে শ্রেষ্ঠতম স্থানে অধিষ্ঠিত। এমন কিছু নেই যা ইসলামকে মহিমান্বিত করেনি।
নৈতিক অবক্ষয়কে যদি চিরতরে বিদায় জানাতে হয় তবে ইসলামের সুমহান ছায়াতলে আসতে হবে। আল কুরআন কে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মেনে নিয়ে ন্যায়পরায়ন জীবনের সূচনা করতে হবে। মহান আল্লাহ কে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। শ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে অনুসরণ করে তার দেখানো পথে নিজের জীবনকে পরিচালনা করতে হবে। জগতের প্রতিটি মানুষ হোক মানবিক, ন্যায়পরায়ন ও মার্জিত। আমরা অবক্ষয় চাইনা, আমরা মারামারি, হানাহানি কিংবা যুদ্ধ চাই না। আমরা চাই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ হোক সুখী, সমৃদ্ধ ও ন্যায়পরায়ন।
Risalat Mirbahar
Writer & Editor: Obalardak
E-mail: obalardak@gmail.com,
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]

