নাগরিক হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের আইনত সদস্য এবং সেই রাষ্ট্রের অধিকার ও কর্তব্যগুলো পালন করে থাকেন। সাধারণত নাগরিকরা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক আইন দ্বারা নির্ধারিত অধিকারগুলো ভোগ করে থাকেন। এছাড়া রাষ্ট্রের বিভিন্ন দায়িত্বসমূহ পালন করে থাকেন। ভোটাধিকার হচ্ছে নাগরিকদের চূড়ান্ত অধিকার যার মাধ্যমে নাগরিকরা সরকার পরিবর্তন করেত সক্ষম হয়।
নাগরিকদের ভূমিকা: মূলত রাষ্ট্রে বসবাসকারী একজন সাধারণ নাগরিক রাষ্ট্রের বিভিন্ন অধিকার, সুবিধা এবং সুরক্ষা ভোগ করে থাকেন। ভোটাধিকার হচ্ছে নাগরিকদের এমন একটি অধিকার যা নাগরিকের চূড়ান্ত মতামত প্রকাশ করতে সহায়তা করে। কেননা ভোটাধিকার প্রদানের মাধ্যমে একজন নাগরিক তার সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ লাভ করেন। মূলত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সরকার নাগরিকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন রকম ম্যানডেট বা প্রতুশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা করে থাকেন। সাধারণ নাগরিকরা রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে তাদের কাঙ্খিত ভোট প্রদান করে থাকেন। ফলে রাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয়ে থাকে। ক্ষমতাসীন দল তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো পালন করেছে কিনা অথবা প্রতুশ্রুতি অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করেছে কিনা সে বিষয়ে সাধারণ নাগরিকরা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। তাই বলা যায় একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনে সাধারণ নাগরিকরা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকেন।
রাজনৈতিক দলের ভূমিকা: একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় আসীন হওয়ার জন্য তাদের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈকি সুবিধার কথা প্রচার করে থাকেন। বিশেষ করে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য এসব প্রতুশ্রুতি জনসম্মুখে তুলে ধরেন। সাধারণ নাগরিকরা সেগুলো কে বিচার বিশ্লেষণ করে কোন দলকে ভোট দিবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সর্বোচ্চ সতার্কাবস্থায় থাকে। বিশেষ করে যে দল সরকার গঠন করেন তারা তাদের প্রতুশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করেন। তবে কখনও কখনও এসব প্রতুশ্রুতি পালনে সরকার উদাসীন থাকেন।
রাষ্ট্রে বসবাসকারী একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে কিভাবে একজন সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করবেন সে বিষয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।
প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে সকল বিষয়ে লক্ষ্য রাখা উচিত:
প্রার্থীর আয়ের উৎস: প্রার্থীর আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে হবে। বিশেষ করে প্রার্থী সত্যিকার অর্থে বৈধ পন্থায় আয় করছেন কিনা সে বিষয়ে জানা আবশ্যক। কেননা অবৈধ আয় অবৈধ পথে ব্যায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
প্রার্থী সৎ কিনা: প্রার্থী সৎ কিনা সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশেষ করে প্রার্থীর সততা ও আদর্শের বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। কারণ একজন মানুষের মধ্যে সততা থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্র ভুল পথে পরিচালিত হয় না। ফলে দেশের সাধারণ মানুষ তার সুফল ভোগ করে থাকেন।
প্রার্থী মাদকাসক্ত কিনা: প্রার্থী মাদকাসক্ত কিনা সে বিষয়ে জানতে হবে। শুধু তাই নয় একজন প্রার্থী মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত কিনা সে বিষয়েও সাধারণ নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। বর্তমানে মাদকের কারণে আমাদের তরুণ সমাজ বিপথগামী হয়ে পড়ছে। ফলে সামাজিক অশান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রার্থীর জনপ্রিয়তা: প্রার্থী সবার মাঝে কেমন জনপ্রিয় তা দেখতে হবে। বিশেষ করে প্রার্থীর অতীত কর্মকান্ডের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে। অতীতে প্রার্থী সমাজে কি ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন সে বিষয়ে ধারণা থাকতে হবে। একজন ভালো প্রার্থী নির্বাচনে তার সামাজিক কাজগুলোকে খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে সে খারাপ কাজে সম্পৃক্ত ছিল কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ: প্রার্থীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, দুর্নীতি, সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে কিনা সে বিষয়ে ভালো ভাবে জেনে নিতে হবে। কারণ একজন দুর্নীতিগ্রস্থ, অসৎ অর্থ পাচারকারী মানুষ কখনও সমাজের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে না।
জনকল্যাণমূলক কাজ: প্রার্থী অতীতে জনকল্যাণ মূলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিল কিনা সে বিষয়ে খোজ খবর নিতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক ভাবে সাধারণ মানুষ এর আগে তার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে সুবিধাভোগী হয়েছেন কিনা তা বিবেচনায় রাখতে হবে।
দেশ ও জাতির বিরুদ্ধ: প্রার্থী দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে এর আগে কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছিল কিনা সে বিষয়ে খোজ নিতে হবে। কেননা একজন দেশ বিরোধী একজন জনপ্রতিনিধি কখনও দেশ ও সমাজের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে না। তাই একজন সত্যিকারের দেশ প্রেমীক মানুষকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা আবশ্যক। যাতে করে দেশ ও সমাজের কল্যাণ হয়।
ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নাগরিকদের ভূমিকা:
ভোট একজন নাগরিকের অধিকার। তাই ভোট প্রদানের মাধ্যমে একজন নাগরিক সরকার পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তাই কোন ভাবেই সেই মূল্যবান ভোটকে অন্যের কু-পরামর্শে বিক্রি করতে দেয়া যাবে না। কারণ ভোট আমার আপনার নিজ অধিকার। তাই আসন্ন নির্বাচনের মূল বিষয় থাকবে ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দিব’। কাজেই কেউ যদি জোর করে বা লোভ দেখিয়ে আপনার মতামতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে তবে তা হতে দিবেন না। মনে রাখবেন ভোট হচ্ছে আপনার আমার বিবেক। তাই নিজের বিবেক সম্পর্কে সচেতন থাকবেন। কখনও নিজের বিবেক কে বিক্রি করবেন না। সবকিছু জেনে শুনে একজন সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচন করবেন। যাতে করে একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বি-নির্মানের স্বপ্ন স্বার্থক হয়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন সৎ, আদর্শবান ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করে দেশ ও জনগনের কল্যাণে নাগরিক হিসেবে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করি। বিশেষ করে নির্বাচনী আরচণ বিধি মেনে স্ব স্ব ভোট কেন্দ্রে সুশৃঙ্খল ভাবে নিজ নিজ ভোট প্রদান করি। মনে রাখবেন ভোট আপনার আমার গণতান্ত্রিক অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। তাই দেশ ও জাতির কল্যাণে একজন সত্যিকারের সৎ মানুষকে নির্বাচন করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।

