মোঃ রিসালাত মীরবহর।। আধুনিক যুগ প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির এই বিশাল দুনিয়ায় আমরা সবাই হাবুডুবু খাচ্ছি। দিন যত গড়াচ্ছে প্রযুক্তির সুবিধা সবাই তত বেশি উপভোগ করছে। বিশেষ করে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুঠোফোন এক যুগান্তকারী মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সারা দুনিয়ায় মুঠো ফোনের রাজত্ব চলছে। একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল থাকলে গোটা পৃথিবীর সবকিছু আপনার হাতের মুঠোয় থাকে। কেনাকাটা থেকে শুরু করে নিজের বিজনেস, সোস্যাল মিডিয়া, বিনোদন, সবার সাথে যোগাযোগ, প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আবহাওয়া, খেলাধুলা সহ সব ধরনের তথ্য আমরা মুঠোফোনের মাধ্যমে জানতে পারি। চাইলেই মুহুর্তে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কি ঘটছে তা দেখা সম্ভব। আর এ সব কিছু সম্ভব হয়েছে প্রযুক্তির বদৌলতে। যার সুবিধা আজ গোটা পৃথিবীর মানুষ উপভোগ করছে।
তবে এত এত উপকার থাকা সত্ত্বেও মুঠো ফোন হয়ে উঠেছে প্রতারকদের এক নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগের মাধ্যম। যা দ্বারা অপরাধিরা নেট দুনিয়ায় বারাচ্ছে তাদের দৌরাত্ম। দেশ-বিদেশের কিছু অসাধু প্রতারক নিজ স্বার্থে হাতিয়ে নিচ্ছে মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ। শুধু তাই নয় বিদেশে মানব পাচার, মাদকের রমরমা ব্যবসা, অপহরণ সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে মুঠোফোনের বহুল ব্যবহার এখন চোখে পড়ার মতো। কখনও কখনও এগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তবে মুঠোফোনের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক হচ্ছে অভিনব কায়দায় অসহায় মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি।
মোসাঃ নার্গিস আক্তার (ছদ্ম নাম) পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী। মোবাইল ইন্টারনেট এর মাধ্যমে সোস্যাল মিডিয়ায় একজন অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলতে থাকেন। কথা বলার এক পর্যায়ে তাকে অফার দেওয়া হয় প্রায় ২ লাখ টাকার জিনিসপত্র বিদেশ থেকে অত্যন্ত কম মূল্যে তাকে পাঠানো হবে। এমনকি কোন এয়ারপোর্ট থেকে মালামাল গুলো পাঠানো হবে তার ভিডিও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া যে সকল মালামাল পাঠানো হবে তার বেশকিছু ছবি নার্গিসের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। শর্ত দেওয়া হয় কেবলমাত্র ১৬ হাজার টাকা হলেই মিলবে প্রায় ২ টাকা মূল্যমানের এসব দামী উপহার। প্রথমে নার্গিস রাজি না থাকলেও পরবর্তীতে ৮ হাজার টাকায় বিদেশে থাকা লোকটি সাথে সম্ভাব্য চুক্তি হয়ে যায়। এরপর নার্গিসের মুঠো ফোনে জানানো হয় বিষয়টি যেন কেউ জানতে না পারে। এমনকি খুব কাছের মানুষগুলোও না। এরই মধ্যে বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট থেকে নার্গিস কে কল দেওয়া হয়। যা ছিল সম্পূর্ণ প্রতারকদের সাজানো। তাকে জানানো হয় প্রায় ২ টাকার উপহার তার জন্য অপক্ষা করছে। নার্গিস যখন উপহারগুলো পাওয়ার চিন্তায় বিভোর তখন ব্যাংকে গিয়ে কাউকে না জানিয়ে ৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিয়ে আসেন বিকাশের দোকানে। প্রতারকরা নার্গিসের হোয়াটসঅ্যাপে একটি নাম্বার দেয়। যে নাম্বারে টাকাটা পাঠাতে বলেন নার্গিস কে।
প্রতারক ও নার্গিসের সব পরিকল্পনা ঠিকঠাক থাকলেও বেকে বসেন অবেলার ডাক সম্পাদক। কারণ বিকাশের সেই দোকানটিতে বসে ছিলেন দেশের জনপ্রিয় সাহিত্য সংগঠন অবেলার ডাক সম্পাদক মোঃ রিসালাত মীরবহর। প্রথমে নার্গিসের গতিবিধি লক্ষ্য করেন। তার কথায় সন্দেহ হলে সম্পাদক নার্গিসকে জিজ্ঞেস করেন টাকাটা কোথায় পাঠাচ্ছেন? নার্গিস সহজেই উত্তরে জানায় বিদেশ থেকে উপহার আসছে আমার নামে এয়ারপোর্টে। সেখানে তাদের কে টাকাটা পাঠিয়ে দিচ্ছি। সম্পাদক জিজ্ঞেস করলেন আপনার বাসায় কেউ জানে? নার্গিস উত্তর দিল না কেউই জানে না। এবার সম্পাদক বিকাশ করা থেকে বিরত থাকলেন এবং নার্গিস কে বোঝানোর চেষ্টা করতে থাকলেন।
যদি সত্যিই আপনার উপহার এসে থাকে তবে ক্যাশ অন ডেলিভারি দিতে বলুন ওনাদের। এর মধ্যেই বারবার কল করে টাকা পাঠানোর জন্য তাগাদা দিচ্ছে প্রতারক চক্র। নার্গিস কিছুটা সিন্ধান্তহীনতায় পড়ে গেল। এরই মধ্যে আর্থিক লেনদেন প্রতিষ্ঠান নগদ এর প্রতিনিধি সম্পাদকের দোকানে এসে উপস্থিত। এবার সম্পাদক সবকিছু জানালেন নগদের প্রতিনিধিকে। নগদের প্রতিনিধি এবং সম্পাদক উভয়েই নার্গিস কে বোঝানোর চেষ্টা করলেন। অবশেষে নার্গিস তার ভুল বুঝতে পারলো। দু’জনের চেষ্টায় অবশেষে নার্গিসের কষ্টে উপার্জিত অর্থ প্রতারকদের হাতে পৌছালো না।
অবেলার ডাক সম্পাদক শুধু নার্গিস কে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আর্থিক লেনদেন করতে যাচ্ছেন অপরিচিত মানুষের সাথে অথচ আপনার স্বামী সেটা জানেন না। কেমন স্বামী আপনার? আরেকটু হলেই আপনার এত কষ্টের টাকা পৌছে যেত প্রতারক চক্রের হাতে। সবকিছু এবার নার্গিসের কাছে স্পষ্ট হলে কিছুটা নীরব থাকেন নার্গিস। এরপর বললেন, আপনারা আমার অনেক বড় উপকার করলেন।
আমরা অনেকেই আছি সামান্য লোভে পড়ে নিজেদের অর্থ তুলে দেই প্রতারকের হাতে। অথচ এসব প্রতারকরা দিনের পর দিন প্রতারণা করেই যাচ্ছে। আমরা যদি নিজে থেকে এ বিষয়ে সচেতন না হই তবে প্রতারণার নিত্য নতুন ফাদ পেতে অসহায় মানুষের কষ্টের টাকা অনায়সেই হাতিয়ে নিয়ে যাবে প্রতারকরা। তাই আসুন কখনও কারও সাথে আর্থিক লেনদেন মোবাইল ব্যাংকিং সেবার কোন ওটিপি কাউকে শেয়ার করবো না। এছাড়া উপহার এর লোভে পড়ে কোন অপরিচিত ব্যাক্তির সাথে আর্থিক লেনদেন করবো না।
Risalat Mirbahar
Writer & Editor: Obalardak
E-mail: obalardak@gmail.com,
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]
Writer & Editor: Obalardak
E-mail: obalardak@gmail.com,
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]


