মোঃ রিসালাত মীরবহর সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের একজন তরুণ লেখক, কবি ও কলামিস্ট। যিঁনি মূলত নৈতিক ও সামাজিক গল্প রচনার মাধ্যমে পাঠকমহলে নিজের স্থান তৈরি করে নিয়েছেন। তাঁর লেখালেখি মূলত সামাজিক সচেতনতা, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং সমকালীন জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
এছাড়া তিনি একজন তরুণ সম্পাদক হিসেবেও অত্যন্ত সু-পরিচিত। তাঁর লেখায় আধুনিক জীবনের সংকট, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় এবং মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলো বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পশাপাশি তিঁনি বিভিন্ন সামাজিক ও নৈতিক বিষয়ে নিয়মিত কলাম ও প্রবন্ধ লিখে থাকেন।
তাঁর পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বরিশালের ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায়। নদীমাতৃক বরিশালের প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ তাঁর লেখার ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত তরুণ বয়স থেকেই নিয়মিত লেখালেখির সাথে নিজেকে জড়িয়ে নেন। বর্তমানে তিনি সাহিত্য চর্চাকে জীবনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিনি তাঁর রচনাগুলোতে মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং সমসাময়িক সামাজিক অবক্ষয়কে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
তাঁর লেখার ভাষা অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল, যা সাধারণ পাঠকদের সহজেই আকর্ষণ করে। মানব মনের সূক্ষ্ম আবেগ, ভালোবাসা, হতাশা এবং দ্বন্দ্ব তাঁর গল্পের মূল উপজীব্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তিনি তাঁর লেখায় কেবল সমসাময়িক সামাজিক সংকটগুলোকেই সামনে তুলে ধরেন নি বরং তাঁর প্রতিটি লেখার পেছনে তিনি সমাজকে একটি ইতিবাচক বার্তা বা নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
তাঁর প্রকাশিত ও সমাদৃত লেখাগুলোর মধ্যে ‘সামাজিক অবক্ষয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব’ শিরোনামে লেখাটি অন্যতম। এ লেখাটি মূলত সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের চরম উদাহরণ হিসেবে তিনি বর্ণনা করেছেন। যেখানে তিনি মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক জটিলতা ও প্রকৃত শিক্ষার অভাবকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর আরেকটি অন্যতম লেখা হচ্ছে, ‘যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার, সেখানেও চলছে নানা সমস্যা’। এ লেখাটির মধ্যদিয়ে মূলত তিঁনি সমকালিন পারিবারিক টানাপোড়নের কারণে মানব সৃষ্ট ভঙ্গুর পারিবারিক ব্যবস্থার এক চরম দূরাবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। যেখানে তিনি মূলত নিজ পরিবার থেকে মানুষের আলাদা হয়ে যাওয়া কিংবা দূরত্বকে বুঝাতে চেয়েছেন। ‘দাম্পত্য কলহে বাড়ছে পরকীয়া আর ডিভোর্স’ শিরোনামে তাঁর আরেক লেখায় তিঁনি নৈতিকতার আরেক চরম অবনতির কথা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন। যা দাম্পত্য জীবনকে অত্যন্ত দুর্বিষহ করে তুলেছে। তিনি তাঁর এই লেখার মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনের সুন্দর বন্ধনগুলো খুব সহজে কিভাবে ছিন্ন হয়ে যায়, সেই বিষয়গুলোকে আলোকপাত করেছেন।
এছাড়া ‘আমি নরক থেকে বলছি’ শিরোনামে তাঁর লেখায় মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্ধকার দিক এবং অপরাধপ্রবণ মানসিকতার একটি বাস্তবসম্মত চিত্র অঙ্কিত করেছেন। যা বর্তমান সমাজের সমসাময়িক অপরাধের শাস্তিকে পরলৌকিক জগতের এক অন্ধকার অধ্যায়ের সাথে তুলনা করেছেন। যেখানে তিঁনি পরলৌকিক জগতের শাস্তি থেকে মুক্তির আর কোন সুযোগ নেই বলেও মত প্রকাশ করেছেন।
সাহিত্য সৃষ্টির পাশাপাশি তিনি তরুণ ও নতুন প্রজন্মের মেধাবী লেখক তৈরিতেও কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে তিনি ‘অবেলার ডাক’ নামের একটি নিয়মিত অনলাইন ও প্রিন্ট সাহিত্য পত্রিকার প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর সৃষ্ট এই পত্রিকার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মেধাবী লেখক তাদের সৃজনশীল চিন্তা ও মতামতগুলোকে প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া তিঁনি নবীন ও উদীয়মান লেখকদের লেখা প্রকাশের মাধ্যমে লেখার প্রতি নতুনদের আগ্রহ ও উৎসাহ তৈরিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
লেখক: মোঃ রিসালাত মীরবহর।

