ডিভোর্স

বিজ্ঞাপন: ০১

Type Here to Get Search Results !

বিজ্ঞপ্তি: ০১

বিজ্ঞাপন: ০২

ডিভোর্স


শিলা ও সুজন দম্পতি ভালোবেসে বিয়ে করে। বিয়ের এক যুগ পার করেছে তারা। বিয়ের প্রথম কয়েক বছর খুব ভালোই কেটেছে তাদের। খুব সুখী দম্পতি ছিল তারা। বিয়ের দুই বছর পর তাদের প্রথম কন্যা সন্তান মাইশার জন্ম হয়। মাইশার জন্মের পর থেকে ওদের দু'জনের মধ্যে একটু একটু করে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। একজন আরেকজনের দোষ ধরতে শুরু করে। কথা কাটাকাটি, ঝগড়াঝাটি শুরু হয় তখন থেকেই। তবুও সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে দু'জনেই মানিয়ে চলার চেষ্টা করে।

মাইশার জন্মের তিন বছর পর শিলা দ্বিতীয় সন্তানের মা হয়। এবার ওদের সংসারে আসে একটি ছেলে সন্তান। ওরা ছেলের নাম রাখে রাইয়ান। রাইয়ান জন্মের পর থেকে ওদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি আরো বেড়ে যায়। কথায় কথায় ঝগড়া করে দু'জন। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। এভাবেই চলতে থাকে ওদের সংসার। বৌউয়ের কাছে শান্তি না পেয়ে সুজন পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। সংসারের প্রতি এখন আর কোনো টান নেই সুজনের। সে তার পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। অনেক রাত করে বাড়ি ফিরে। শিলার সাথে এখন আর ঝগড়া করারও সময় নেই সুজনের। শিলা তার দুই সন্তান নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ওরা এখন একটু বড় হয়েছে। ওদেরকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে। বাচ্চাদেরকে স্কুলে আনা-নেওয়া, তাদের পড়াশোনা দেখা, এসব নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত থাকে এখন শিলা। তাই স্বামীর পরকীয়া প্রেমের বিষয়টা আন্দাজ করতে পারেনা শিলা। 

শিলা তার দুই সন্তান ও সংসার নিয়ে ব্যস্ত। আর ওদিকে সুজন তার প্রেমিকাকে নিয়ে পরকীয়া প্রেমে ব্যস্ত। একদিন বাচ্চাদেরকে স্কুল থেকে আনতে যাওয়ার সময় শিলা দেখলো তার স্বামী সুজন একটা সুন্দরী মেয়ের সাথে রিকশায় করে যাচ্ছে। এটা দেখে শিলার পায়ের তলার মাটি যেনো সরে গেলো। শিলা বাসায় এসে ভাবতে লাগলো কে ঐ মেয়ে? সুজনের সাথে কি সম্পর্ক মেয়েটার? রাতে সুজন যখন বাসায় ফিরে, শিলা জানতে চায়, মেয়েটা কে? সুজন বলে কোন মেয়েটা? শিলা বলে আজ দেখলাম রিকশায় করে একসাথে যাচ্ছো সুন্দরী একটি মেয়ের সাথে। 

শিলার কথা শুনে সুজন চমকে উঠলো। আমতা আমতা করে বলল, ও আমার কাজিন। একটা জরুরি কাজে ওর সাথে যেতে হয়েছে। শিলা বলল, মিথ্যা কেন বলছো? আজ তোমার কাপড় ধোয়ার সময় তোমার শার্টে লিপস্টিকের দাগ দেখেছি। ছিছিছি! ঐ মেয়ের সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক আছে তোমার? তুমি পরকীয়া প্রেম করছো? এই কথা বলে রাগে ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করতে লাগলো শিলা। বলল, এতোদিন তোমার সবকিছু সহ্য করেছি, তোমার ঝগড়া, তোমার অবহেলা, সবকিছু। কিন্তু আজ যা দেখলাম সেটা সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই। আমি আজই চলে যাবো আমার বাপের বাড়ি। তোমার মতো চরিত্রহীন লোকের সংসার আর করবো না। 

এই কথা বলে শিলা ব্যাগ গুছিয়ে তার দুই সন্তানকে সাথে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেলো। সুজন অনেক বাধা দিলো,অনেক সরি বলল, অনেক কাকুতি মিনতি করলো। কিন্তু শিলা কিছুই শুনলো না। বাপের বাড়ি গিয়ে শিলা, সুজনকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেয়। সুজন আর শিলার ডিভোর্স হয়ে যায়। সুজন তার পরকীয়া প্রেমিকাকে বিয়ে করে আবার সংসার শুরু করে।

শিলা একটা চাকরি করে এখন। কারণ তার দুই সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব যে এখন তার। শিলা এখন তার দুই সন্তানকে নিয়ে থাকে। তবে ভালো নেই শিলা। ভালো নেই ওর সন্তানেরা। কারণ ওরা যে বাবার আদর, স্নেহ আর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। ওদিকে সুজনও ভালো নেই। সন্তানদেরকে কাছে না পাওয়ার কষ্ট তাকে প্রতিনিয়ত কুড়েকুড়ে খায়। এভাবেই ডিভোর্সের কারণে সুখ শান্তি হারায় স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কারা জানেন? তাদের সন্তানগুলো।

লেখিকা: শামীমা আক্তার।
ঢাকা, বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন: ০৪ [Below]

বিজ্ঞাপন: ০৫

বিজ্ঞাপন: ০৬