রাফি এবং ভয়ানক মাদক

বিজ্ঞাপন: ০১

Type Here to Get Search Results !

বিজ্ঞপ্তি: ০১

Notice| To read this website in your country's language, please change the language & contact us for advertising *বিজ্ঞপ্তি| আসসালামু আলাইকুম। সাপ্তাহিক ই-পেপারের জন্য ৮ লাইনের ছোট কবিতা | ওয়েবসাইটের ই-পেপারের জন্য ১৬ লাইনের কবিতা | মাসিক ই-পেপারের জন্য ১২ লাইনের কবিতা | প্রিন্ট সংখ্যার জন্য ১৬ লাইনের কবিতা ই-মেইল করুন | ই-মেইল ব্যতীত অন্য কোন মাধ্যমে পাঠানো লেখা প্রকাশ করা হয় না | লেখা প্রকাশের স্বার্থে অবশ্যই লেখা আহবানের নিয়ম অনুসরণ করুন | আসুন মাদক ছাড়ি কলম ধরি, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ি | প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রিসালাত মীরবহর | E-mail: obalardak@gmail.com | What's App: +8801516332727 | Website: obalardak.blogspot.com |

বিজ্ঞাপন: ০২

রাফি এবং ভয়ানক মাদক


রাফি বাবা-মায়ের একমাত্র আদরের ছেলে। পড়ালেখায় খুব ভালো। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। এসএসসি, এইচএসসি দু’টোতেই গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করেছে। রাফির মা-বাবার অনেক স্বপ্ন রাফিকে নিয়ে। বিশেষ করে ওর বাবার স্বপ্ন রাফিকে মস্ত বড় ডাক্তার বানাবে। দেশ বিদেশের মানুষ এক নামে চিনবে তার ছেলেকে। সেই আশায় রাফিকে ডাক্তারি পড়ানোর জন্য নামকরা একটি মেডিকেল কলেজে ছেলেকে ভর্তি করিয়ে দিলেন রাফির বাবা। ভালো মেডিকেল কলেজে পড়ার খরচও অনেক বেশি। ছেলের ডাক্তারি পড়ার খরচ জোগাড় করতে অনেক কষ্ট করতে হয় রাফির বাবাকে। দিন রাত পরিশ্রম করেন টাকা উপার্জনের জন্য। দিনে চাকরি করেন, রাতে চায়ের দোকান চালান। এভাবে হাড়ভাঙা খাটুনির পর অবশেষে ডাক্তারি পাশ করলো রাফি। খুব ভালো রেজাল্ট করলো। রাফির মা-বাবা তো মহাখুশি। তাদের ছেলে আজ ডাক্তার হয়েছে। তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

কিন্তু রাফি ডাক্তারি পাশ করার কিছুদিন পর থেকে ওর মা-বাবা খেয়াল করলো রাফির আচার-আচরণ কেমন যেন অস্বাভাবিক। সে সারারাত জেগে থাকে। সারা দিন ঘুমিয়ে কাটায়। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করেনা। মা-বাবার সাথে ঠিকমতো কথা বলেনা। তাকে কিছু বললে রাগারাগি করে। প্রতিদিন হাত খরচের টাকা চায়। টাকা না দিলে মা-বাবার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে। রাগারাগি করে, জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। রাফির মা-বাবার সন্দেহ হয় ছেলের এমন অস্বাভাবিক আচরণ দেখে। তারা একদিন রাতে লুকিয়ে রাফির ঘরের জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। দেখতে চাইলো রাফি সারা রাত জেগে কি করে? তারা যা দেখলো তার জন্য তারা মোটেও প্রস্তুত ছিলনা। তারা দেখলো তাদের একমাত্র আদরের সন্তান মাদক সেবন করছে। ইয়াবা নামক এক ভয়ংকর মাদকে আসক্ত সে। এই দৃশ্য দেখে নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারলো না তারা। 

এটা দেখে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেলো রাফির বাবা। যে ছেলের জন্য সে এতো কষ্ট করেছে, যে ছেলেকে ডাক্তার বানানোর জন্য নিজের সুখ শান্তি আরাম আয়েশ সবকিছু বিসর্জন দিয়েছে, যে ছেলেকে নিয়ে এতো স্বপ্ন দেখেছে, সেই ছেলে আজ কিনা মাদকের মত ভয়ংকর নেশায় আসক্ত। এটা মেনে নিতে পারলো না রাফির বাবা। এমন দৃশ্য দেখে হার্ট অ্যাটাক করলেন রাফির বাবা। উনাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলো। রাফির বাবার যখন জ্ঞান ফিরলো, তিনি দেখলেন তার পাশে বসে আছে তার স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান রাফি। উনার জ্ঞান ফেরার পর রাফি তার বাবার পায়ে ধরে কান্না করতে লাগলো। রাফি বলল আমাকে তুমি মাফ করে দাও বাবা। আমি আর কোনোদিন মাদক সেবন করবো না। তোমাকে কথা দিচ্ছি বাবা। কিছু খারাপ বন্ধুর পাল্লায় পড়ে আমি মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম। ওসব খারাপ বন্ধুদের সঙ্গ আমি ত্যাগ করেছি। 

মাদকের টাকার জন্য তোমাদের সাথে আমি অনেক দুর্ব্যবহার করেছি। আমাকে তোমরা মাফ করে দাও। এসব কথা বলে বাবার পা ধরে হুহু করে কাঁদতে লাগলো রাফি। রাফির বাবা বলল আয় আমার কাছে আয়। রাফি তখন বাবার কাছে গিয়ে বসলো। রাফির বাবা ছেলের দু’টো হাত ধরে বললেন, তুই আমাদের একমাত্র আদরের সন্তান। তোকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন আমাদের। তোকে বড় করার জন্য, পড়ালেখা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করার জন্য আমি নিজে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছি। অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। মাদকে আসক্ত হয়ে তোকে এভাবে তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে হবে এটা আমি কোনোদিনও কল্পনা করিনি। তুই আমাদের স্বপ্ন ভেঙে দিস না বাবা। আমরা তোকে নিয়েই বেঁচে আছি।তোর জন্যই বেঁচে আছি। রাফি বলল, আমি তোমাকে কথা দিলাম বাবা আমি আবার আগের মতো হয়ে যাবো। নেশাটেশা সবকিছু ছেড়ে দিবো। তোমার কষ্ট, তোমার পরিশ্রম আমি বৃথা যেতে দেবো না। তখন রাফির বাবা রাফিকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন।

রাফিও অঝোরে কাঁদতে লাগলো। এরপর রাফি বিদেশ থেকে বড় ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরলো অনেক বড় ডাক্তার হয়ে। তার মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করলো সে। মাদক তার জীবনকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। তাই মাদক ছেড়ে এখন রাফি সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে সফল একজন মানুষ। দেশ-বিদেশের মানুষ এখন তাকে এক নামে চিনে। রাফি এখন মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনার কাজ করে। যুবসমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সচেতন করে তোলে। বিশেষ করে মাদকের ভয়াবহতা সবার মাঝে তুলে ধরে এবং তার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা দিয়ে সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। মাদক জীবন থেকে জীবন কেড়ে নেয়। মাদক যুবসমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সবাই সোচ্চার হোন। বিশেষ করে মাদক কে না বলুন।

লেখিকা: শামীমা আক্তার
ঢাকা, বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: মুমিনের পতন।

আরও পড়ুন: নদীর তীরে ঘর।

আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে: ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন [Click]।

ভিডিও কনটেন্ট নিয়মিত পেতে: ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন [Click]


📌 সম্ভব হলে পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন।

✅আজ এ পর্যন্তই, ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

Writer & Editor: Obalardak
E-mail:
obalardak@gmail.com
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]

বিজ্ঞাপন: ০৩ [Top]



বিজ্ঞাপন: ০৪ [Below]

বিজ্ঞাপন: ০৫

বিজ্ঞাপন: ০৬