বাসায় বাজার নেই তাই বাজারে গেলাম। খুবই ভাঙ্গাচোড়া রাস্তা। অটোতে উঠলে মনে হয় আমি দুলছি। সেই ছোট বেলার মত যেমন আমরা দোলনায় দুলতাম। যাই হোক আমি বাজারের মধ্যে প্রবেশ করলাম। ঘুরে ঘুরে দেখছি। বাজারটি কানায় কানায় পরিপূর্ণ। ফলের দোকানের পাশ দিয়ে হাটছিলাম। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, একটি টুলের উপর বসে একজন সম্মানিত পুলিশ পায়ের উপর পা তুলে ধূমপান করছেন। ধূমপানের বিষয়ে যদি বলি তাহলে আমি এটিকে প্রচন্ডভাবে ঘৃণা করি। পবিত্র কোরআনে ক্ষতিকর বিষয়ে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘(তোমরা) নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৯৫)। ইসলামে ধূমপানকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ ধূমপান কেবল একটি মাদক নয় বরং এটি মানুষের জীবন ধ্বংসকারী।
পুলিশটির ধূমপান দেখেও না দেখার ভান করলাম। কারণ আমিতো গিয়ে ওনাকে বলতে পারবো না আপনি ধূমপান করছেন কেন? তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। যদিও আমাদের দেশে আইন আছে ধূমপানের বিষয়ে। কিন্তু খোদ আইনের মানুষই যদি আইন না মানে তবে সাধারণ মানুষ কি করে আইন মানবে? যখন আমি ওনার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন দেখলাম উনি তারাহুড়ো করে সিগারেট টি হাত দিয়ে লুকিয়ে ফেললেন। যাতে আমি না দেখতে পাই। এরপর দেখলাম উনি পায়ের উপর পা সরিয়ে নিলেন।
করোনা মহামারী আমাদের জন্য অনেক বড় এক শিক্ষা। কিন্তু আমরা অনেকেই এই মহামরি থেকে কিছু শিখতে পারিনি। করোনার আগেও আমি ছিলাম একজন তরুণ। দূরন্তপণা, চঞ্চলতা ছিল আমার সঙ্গী। কিন্তু করোনা পরবর্তী আমার জীবন হয়ে ওঠে অন্যরকম। আমি আমার পোশক পরিচ্ছেদ সহ সবকিছুতে পরিবর্তন নিয়ে আসি। করোনা পূর্ববর্তী সময়েও আমি কখনও ধূমপান কিংবা অন্য কোন নেশায় কখনও আসক্ত ছিলাম না। এর অবশ্য একটি কারণ আছে। আমার বাবাকে দেখেছি জীবনে কখনও ধূমপান করেন নি। আমার দাদাকেও দেখেছি শেষ বয়স পর্যন্ত তিনিও কখনও ধূমপানে আসক্ত ছিলেন না। তাই ধূমপানের মত একটি জঘন্য বিষয় আমাকে কখনও আসক্ত করেনি। আমি বলবো এটা আমার প্রতি মহান আল্লাহর এক অশেষ দয়া। আমি আমার রবের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে, তিঁনি আমাকে একজন ধূমপায়ী হিসেবে সৃষ্টি করেন নি। মূলত আমি ধূমপায়ী ব্যক্তিকে খুবই অপছন্দ করি। এমনকি একজন ধূমপায়ী ব্যক্তির সাথে কথা বলতেও সাচ্ছন্দবোধ করি না।
অবেলার ডাক এর কাজ করতে গিয়ে ধূমপান সহ সকল প্রকার মাদক কে নিরুসাৎহীত করেছি। আমি আমার জায়গা থেকে যতটুকু পেরেছি চেষ্টা করেছি। হয়তো আমার এই ক্ষুদ্র জায়গা থেকে বড় পরিসরে কিছু করতে পারিনি বা সফল হয়নি। তবুও চেষ্টা করেছি বা করে যাচ্ছি। ধূমপান এমন একটি ক্ষতিকর মাদক যা মানুষ কে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে ধূমপায়ী একজন ব্যক্তি চাইলেই খুব সহজে ধূমপান থেকে বের হয়ে আসতে পারে না। এজন্য তাকে দিনের পর দিন যুদ্ধ করতে হয়। আর এ যুদ্ধে জয় একেবারেই অনিশ্চিত। খুব কম মানুষ আছেন যারা এটিকে ছাড়তে পারেন। আমি আমার জীবনে অনেক মানুষ দেখেছি যারা নিজেকে অসুস্থ বোধ করছেন। বিশেষ করে হাল্কা কাশি লেগেই আছে। এমনও হয়েছে যে, ধূমপানের কারনে হার্ট ব্লক হয়ে গেছে অথবা সরকারি মেডিকেলের বারান্দায় এনজিওগ্রাম করার জন্য ঘুরছেন।
কিছু ফল কিনলাম বাজার থেকে। এরপর ঘুরে ফিরে আমি সেই পুলিশের বসার স্থানে আসলাম। এবার দেখলাম উনি আমাকে দেখে উঠে গেলেন। তবে তার হাতে আর সিগারেট নেই। আমি ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি পড়া। চোখে চশমা আর মুখভর্তী দাড়ি। সম্ভবত উনি বেশ অপ্রস্তুত হয়ে গেছেন। অত্যন্ত বিনয়ের সাথে উনি জায়গা ত্যাগ করলেন। ওনার এই মার্জিত বিষয়টি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। তাই ক্ষানিকটা মনে হয়েছে সব পুলিশ, পুলিশ না। বরং তাদের অনেকের মধ্যেও বিবেক আছে, বুদ্ধি আছে।
আমি পুলিশের এমন আচরণে অত্যন্ত খুশি। অন্তত একজন মানুষকে সে সম্মান করে সিগারেট লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন। অথচ আমাদের সমাজে এমন মানুষ আছেন যারা নূন্যতম সম্মানটুকু দিতে জানেন না। বিশেষ করে আমাদের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই বয়স্ক মানুষের সামনে খোলামেলা ভাবেই ধূমপান করে যাচ্ছেন। আমি সবসময় একটি কথা বলি, শিক্ষিত হওয়া জরুরী না বরং মানুষ হওয়া আগে জরুরী। আমি অনেক সময় দেখতে পাচ্ছি যে, একজন হুজুর বা একজন মুরব্বী বয়সী মানুষ বসে আছেন অটোতে বা গাড়িতে তার পাশে বসেই ধূমপান করে যাচ্ছেন অন্য একজন মানুষ। কতটা অবক্ষয় হলে এমন হতে পারে একবার ভাবুন।
মনে রাখবেন ধূমপান কখনও স্বাস্থের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না। বরং আপনি যদি একজন ধূমপায়ী হন তবে সবার চোখে আপনি অসম্মানী একজন মানুষ হিসেবে পরিচিত হবেন। শুধু তাই নয় ইসলাম ধূমপান কে সম্পূর্ণ হারাম করেছে। তাই আসুন আমরা যারা ধূমপানে আসক্ত তারা যেন স্বপ্রণদিত হয়ে ধূমপান ছেড়ে দেই। মহান আল্লাহ আমাদের রহমত করুন। আমরা যেন পৃথিবীকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে পারি। আমাদের কারণে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন ধূমপায়ী হয়ে না ওঠে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আসুন দেশকে ভালোবাসি, মানুষকে ভালোবাস। কোন মানুষের ক্ষতির কারণ যেন না হয়ে উঠি। তবেই তো জীবন স্বার্থক। মৃত্যুর পর অন্তত এটুকু নিজের জন্য অর্জন করি, আমি মানুষ ছিলাম, আজও আছি আর মৃত্যুর পরেও থাকবো।
লেখক: মোঃ রিসালাত মীরবহর
সম্পাদক, অবেলার ডাক সবার জন্য সাহিত্য
বরিশাল, বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: পরকীয়া।
আরও পড়ুন: শেষ বিদায়ের কালে।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে: ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন [Click]।
📌 সম্ভব হলে পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন।
✅আজ এ পর্যন্তই, ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
Writer & Editor: Obalardak
E-mail: obalardak@gmail.com
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]
E-mail: obalardak@gmail.com
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]




.png)