মোঃ রিসালাত মীরবহর ।। মানুষ সামাজিক জীব। সে হিসেবে আমাদের অনেক সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলো রয়েছে দায়িত্ব আর কিছু কিছু রয়েছে অবশ্য পালনীয়। কিন্তু সমাজ বিস্তারের সাথে সাথে অনেকক্ষেত্রেই আমরা আমাদের সেই দায়িত্বগুলো মেনে চলছি না। ফলে আমরা অনেকটা নীতিহীন সমাজের দিকে ক্রমেই ধাবিত হচ্ছি। মূলত স্বার্থবাদী আর এক কেন্দ্রীক চিন্তা চেতনা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। আবার আমরা অনেকেই রয়েছি যারা নিজেদেরকে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কেবল দূরে সরিয়ে রাখছি শুধুমাত্র তা নয় বরং আমরা সামাজিক যে সুন্দর পরিবেশ কিংবা শৃঙ্খলা সেটাকেও বিভিন্ন ভাবে বিনষ্ট করছি। গুজব বা মিথ্যে তথ্য ছড়ানো তেমনি একটি বিষয়।
বর্তমান আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যে বিকাশ তাতে যে কোন তথ্য ছড়ানো খুব বেশি কঠিন কাজ নয়। বিশেষ করে সোস্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্ম ব্যবহার করে এই কাজটি খুব দ্রুত ও সহজে করা সম্ভব। মূলত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ব্যাক্তি বা কোন নিদিষ্ট গোষ্ঠির স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে এমন কাজ করা হয়। যাতে সত্য বিষয়টি পুরোপুরি আড়াল হয়ে পড়ে আর মিথ্যা বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। যাকে আমরা গুজব হিসেবে অভিহিত করি। রাষ্ট্রে বসবাসকারী বৃহৎ একটি অংশ সাধারণ মানুষ। তাই তাদের মতামত কে প্রভাবিত করতে এমন কাজটি করা হয়। মিথ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ার কারণে সাধারণ মানুষ সহ অনেকেই দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ে। এমনকি তারা কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও কালক্ষেপণ করেন।
বিশেষ করে সাধারণ মানুষের এ বিষয়ে উদ্বেগ কিংবা উৎকণ্ঠার শেষ থাকে না। এমনকি গুজব রটানো বক্তব্যের পিছনে তাদের মতামত গুলোও অনেক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে গুজব একটি মারাত্মক সমস্যা হিসেবে পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে মূল ও সত্য বিষয়টিকে আড়ালের চেষ্টা করা হয়। এগুলো অধিকাংশ করা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। যেহেতু বর্তমানে অধিকসংখ্যক মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের সাথে জড়িত। তাই বিষয়টি দ্রুত অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া খুব সহজ হয়। ফলে অনেকেই উৎসাহী হয়ে এই পথটিকে বেছে নিচ্ছেন। আমার কাছে এটা একটি অপরাধ বলে মনে হয় এবং মিথ্যা তথ্য ছাড়ানোকে একপ্রকার দায়িত্বজ্ঞানহীন হিসেবে আমরা অভিহিত করতে পারি।
তবে আপনি বা আমি যেই এই গুজব ছড়ানোর কাজটি করছি সে কিন্তু সামাজিক যোাগযোগ মাধ্যমে একটি সময় সবার কাছে ভুল ও মিথ্যা খবর ছড়ানোর জন্য প্রতারক হিসেবে প্রমাণীত হচ্ছি। ফলে একটি সময় সোস্যাল মিডিয়ার অধিকাংশ মানুষ আপনাকে বা আমাকে প্রতারক হিসেবেই মূল্যায়ন করছে। শুধু তাই নয় পরবর্তীতে এমন গুজব ছড়ানো কোন মিথ্যা অপপ্রচার কে বিশ্বাস করানোর বিষয়ে অন্যদেরকে আর প্রভাবিত করা সম্ভব হয় না। এতে করে সোস্যাল মিডিয়ায় আপনার যে একটি সুন্দর অবস্থান সেটি কিন্তু পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কারণ বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন।
তাই আমরা বলতে পারি গুজব একটি মারাত্মক সমস্যা। একটি দেশ, সমাজ কিংবা পরিবারে গুজবের সাথে যারাই জড়িত তারা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও প্রতারক। কারণ কোন সুস্থ্য ও বিবেকবান মানুষ কখনো কোন প্রকার মিথ্যা তথ্য বা গুজব সৃষ্টি করে না। এসব মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য কেবল একদল স্বার্থন্বেসী কুচক্রী মহল কোন প্রকার বিচার বিবেচনা না করেই বিভিন্ন ভাবে প্রচার ও প্রচারণা চালায়। তাই আজই সচেতন হউন। সোস্যাল মিডিয়ার যে কোন তথ্যকে আগে ভালো করে অনুষন্ধান করে সেটি বিশ্বস্থ সূত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত কিনা অথবা এসব তথ্যের সত্যতা আসলে কতটুকু সে বিষয়ে যথেষ্ঠ যাচাইবাছাই পূর্বক গ্রহণ করা যেতে পারে।
হুট করেই কোন বিষয়কে সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে যদি মনে হয় উক্ত বিষয়ের সত্যতা রয়েছে তবে সেটি ভিন্ন কথা। এসব সত্য যাচাইয়েও আপনাকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে দৈনিক পত্র-পত্রিকা কিংবা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শরণাপন্ন হতে পারেন। সেক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পর্কে অনেকটা ধারাণা পাওয়া যেতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা কোন একটি মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে আপনার বা আমার কোন লাভ হচ্ছে না। কারণ পরবর্তীতে প্রকৃত সত্য ঘটনাটি একসময় উদঘাটিত হয় এবং তা সবার কাছে প্রকাশ পায়। কেননা সত্য এমন একটি বিষয় যা দিনের আলোর মতো দৃশ্যমান। যা সবাই গ্রহণ করতেও প্রস্তুত। তাই একজন বিবেকবান সত্যিকারের মানবিক মানুষ কখনো মিথ্যা কিংবা বানোয়াট তথ্য ছড়ায় না এবং তার কাছে এগুলোর কোন স্থান নেই। তাই আসুন আমরা এমন মিথ্যা গুজব না ছড়াই। এমন অহেতুক গুজব ছড়িয়ে রাস্ট্র, সমাজ কিংবা পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি না করি।
আসুন আমরা মানুষের জন্য কাজ করি, প্রকৃতির সুন্দর্যের জন্য কাজ করি। যাতে আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী সবার বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠে। আমরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে গুজব ছড়িয়ে সুন্দর সত্যকে আড়াল না করি। আমরা মানুষের জয়গান গাই। সবাই মিলে মানবতার জন্য কাজ করি। আমরা ভবিষ্যত পৃথিবীতে একটি শিশুর আগমনী কে স্বাগত জানাই এবং পৃথিবীতে তার পথচলাকে সুন্দর ও সহজ করে তুলি। যাতে সে চিৎকার করে বলতে পারে,
‘হে পৃথিবী
আমি এসেছিলাম তোমার মাঝে,
চলে যেতে চাইনা এতো সহজে
দিয়ে যেতে চাই অনেক ভালো কিছু
মহান আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টি রয়েছে আমার পিছু’।

লেখক: মোঃ রিসালাত মীরবহর
সম্পাদক, অবেলার ডাক
বরিশাল, বাংলাদেশ।
Join Us:
অবেলার শপ: [Click]
আরও পড়ুন: ছোটঘর [Click]
টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হতে: অবেলার ডাক [Click]
হোয়াটস্ এ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হতে: অবেলার ডাক [Click]
আরও পড়ুন: অবেলার ডাক সম্পাদক পরিচিতি [Click]
প্রতিদিন কবিতা লিখতে: অবেলার ডাক সাহিত্য পরিষদ [Click]
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে: ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন [Click]
আসুন সুস্থ ধারার সাহিত্য চর্চায় সবাই সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেই [Click]
[লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করে সবাইকে পড়ার সুযোগ করে দিবেন। আজ এ পর্যন্তই, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। সুখময় হোক আপনার আগামী অনাগত দিনগুলো। আমাদের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ]
[আপনার সন্তানকে স্কুলে পাঠান। ধর্মীয় চর্চা অব্যাহত রাখুন। সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন। সৎ ও সাধারণ জীবন যাপন করুন। অনলাইন জুয়া ও মাদকমুক্ত থাকুন। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন। দূর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ুন]
Writer & Editor: Obalardak
E-mail: obalardak@gmail.com
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)


