মোঃ রিসালাত মীরবহর।। আমরা সবাই কম বেশি লিখতে কিংবা পড়তে ভালোবাসি। আধুনিক যুগে আমরা সোস্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন মাধ্যমে লেখা পড়ে থাকি। তবে লেখার স্বদিচ্ছা খুব কম মানুষেরই রয়েছে। আমাদের ছোটবেলায় অনেকেই অনেক বই পড়তাম। যেমন: বিভিন্ন ছড়ার, গল্পের কিংবা উপন্যাস অথবা নাটকের। সময় বদলেছে, নিজেদের ব্যস্ততার কারণে এখন আর আমাদের তেমন বই পড়া হয়ে ওঠে না। অথচ আপনি কি জানেন? জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে বইয়ের কোন বিকল্প নেই।
বই কেবল মানুষের জ্ঞানকেই বৃদ্ধি করে না বরং মানুষের মধ্যে থাকা সুপ্ত বিবেক, বুদ্ধিকে অনেক প্রসিদ্ধ করে। তাই বই পড়ার অভ্যাস টা আমাদের জন্য অনেক জরুরী। জীবনের নানা ঘটনা আমাদের নাড়া দিয়ে যায়। আর এসব ঘটনাগুলো থেকে ধারণা নিয়ে লেখকরা অনেক কষ্ট করে মনের মাধুরি দিয়ে বইয়ে লিপিবদ্ধ করেন। মানুষকে তার লেখনির মাধ্যমে নিয়ে যান অন্য এক জগতে। যে জগতে কেবল জ্ঞানের বিচরণ হয়। আর সেই জগতে একমাত্র বিচরণ করে জ্ঞানীরাই। তাই জ্ঞানীরাই তাদের সুপ্ত প্রতিভাবে কাজে লাগিয়ে সে জগতে বিবেক বুদ্ধি রপ্ত করতে সমর্থ্য হন।
একজন সাধারণ মানুষ ঘটনাক্রমে যেখানে তার জ্ঞানকে সীমিত পরিসরে কাজে লাগাতে পারেন। বলা বাহুল্য, সেখানে নিয়মিত পাঠ্যাভ্যাসে রাজত্ব করেন জ্ঞানীরা। আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যাদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ রয়েছে কিংবা নিয়মিত বই পড়েন, সেসকল মানুষগুলো অনেক বুদ্ধিদীপ্ত হয় এবং তারা খুব কম কথাই খরচ করে। তাদের মধ্যে মেধা ও সাফল্য খুব কাছের এবং দৃশ্যমান। এমনকি বই না পড়া মানুষের চেয়ে তাদের মধ্যে ম্যাচুরিটি খুব দ্রুত চলে আসে। যা বই না পড়া মানুষগুলোর মধ্যে দ্রুত লক্ষ্য করা যায় না। এমনকি জ্ঞানীরা তাদের যে কোন সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে ও বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়। পক্ষান্তরে যাদের পাঠ্যাভ্যাসে মনযোগ নেই তারা জ্ঞানীদের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে থাকে।
একবার ভাবুন আমি এতোক্ষণ যে কথাগুলো লিখলাম এবং আমি আপনাদের যা বোঝাতে চাইলাম নিশ্চই তা আপনারা কিছুটা হলেও অনুমান করতে অথবা বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু আপনি যদি এই লেখাটা না পড়তেন তবে লেখার এই ধারণাটাই আপনার মধ্যে জন্মাতো না। প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে জ্ঞান লুকায়িত থাকে। কিন্তু সেই জ্ঞানকে বিকাশিত করতে অনেকে সক্ষম হয়। আবার অনেকে সক্ষম হয় না। জ্ঞানের চর্চা পাঠ্যাভ্যাস দ্বারাই সম্ভব। কাজেই নিয়মিত পাঠ্যাভ্যাসকে আপনি কোন ভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেন না।
আধুনিক যুগে আমরা আমাদের সেই পাঠ্যাভ্যাস হারাতে বসেছি। চাইলেই টিভি, ইন্টারনেট, মোবাইল সহ অন্যান্য স্যোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে জীবন পাড় করে দিচ্ছি। কিন্তু সেখানে আমাদের জ্ঞানের প্রবৃদ্ধি ঠিক কতটুকু এবং আমরা তা কাজে লাগাতে পারছি কিনা সে প্রশ্নে আমরা কখনো যাই না। বরং আমরা দিন দিন পাঠ্যাভ্যাস থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। বরং এতে করে যা হচ্ছে, আমাদের জ্ঞানের সীমাটা সংকুচিত হয়ে আসছে। ফলে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে অক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছি। এছাড়া আমাদের জ্ঞানের জগতটা কে বিকাশিত করতে না পারার কারণে ভবিষ্যৎ সমস্যাগুলো সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা।
ইতোমধ্যে যারা পাঠ্যাভ্যাসের মধ্যে রয়েছেন তারা তাদের কথা ও কাজ দ্বারা বিভিন্ন সমস্যাগুলোকে সুন্দরভাবে মোকাবেলা করতে পারছেন। তারা নিজেদের কে জ্ঞানী ভাবে ঠিক অন্যদের থেকে। তাছাড়া তাদের চলন, তাদের কথপোকথন খুব সীমিত পরিসরে হয়। একটা সময় যখন সে বুঝতে পারে তার জ্ঞানের সীমাটা চূড়ান্ত পর্যায় রয়েছে তখন সে জীবনে সাফল্য বয়ে আনতে অনেকটাই সক্ষম হয়। অন্যদিকে একজন সাধারণ মানুষ অর্থাৎ পাঠ্যাভ্যাসে অমনযোগী লোক তার যে কোন সমস্যায় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে।একজন সত্যিকারের জ্ঞানী মানুষ তার জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তার সামাজিক ভীত রচনা করেন। যা দ্বারা সবাই তাকে সত্যিকারের একজন মানুষ হিসেবে গণ্য করেন। কাজেই জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পড়ার কোন বিকল্প নেই। আপনি যত পড়বেন তত শিখবেন। তত আপনার জ্ঞানের পরিধি বিচরণ করবে জ্ঞানের এক অন্য ভূবনে। যেখানে সাধারণ মানুষের জ্ঞান বিচরণের সুযোগ খুবই কম প্রতিয়মান হয়।
Risalat Mirbahar
Writer & Editor: Obalardak
E-mail: obalardak@gmail.com,
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]
Writer & Editor: Obalardak
E-mail: obalardak@gmail.com,
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]


