টাকার গড়ম

বিজ্ঞাপন: ০১



Type Here to Get Search Results !

বিজ্ঞপ্তি: ০১

Notice| To read this website in your country's language, please change the language & contact us for advertising *বিজ্ঞপ্তি| আসসালামু আলাইকুম। সাপ্তাহিক ই-পেপারের জন্য ৮ লাইনের ছোট কবিতা | ওয়েবসাইটের ই-পেপারের জন্য ১৬ লাইনের কবিতা | মাসিক ই-পেপারের জন্য ১২ লাইনের কবিতা | প্রিন্ট সংখ্যার জন্য ১৬ লাইনের কবিতা ই-মেইল করুন | ই-মেইল ব্যতীত অন্য কোন মাধ্যমে পাঠানো লেখা প্রকাশ করা হয় না | লেখা প্রকাশের স্বার্থে অবশ্যই লেখা আহবানের নিয়ম অনুসরণ করুন | আসুন মাদক ছাড়ি কলম ধরি, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ি | প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রিসালাত মীরবহর | E-mail: obalardak@gmail.com | What's App: +8801516332727 | Website: obalardak.blogspot.com |

বিজ্ঞাপন: ০২

টাকার গড়ম

মোঃ রিসালাত মীরবহর।। নদীমাতৃক বাংলাদেশে আমাদের দক্ষিণ অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য নদ-নদী। শস্য-শ্যামলা, সুজলা-সুফলা মাতৃভূমির কোল ঘেষে এসব নদী বয়ে চলেছে হাজার বছর ধরে। যা প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র কে করেছে অনিন্দ্য সুন্দর। প্রকৃতির এই সাজ সাজ রব আমাদের মনকে করে প্রাণবন্ত। এসব নদীগুলোর সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের অসংখ্য স্মৃতি। নদীর স্রোতের সাথে মিশে আছে হাজারো গল্প আর কবিতা। নদী কখনও তার পথ হারায় না। বরং খুজে নেয় নতুন পথ। আর এই পথ ধরেই গড়ে ওঠে হাট-বাজার আর জনবসতি। যেখানে মেতে ওঠে সবাই চায়ের আড্ডায়।

আমি যাতায়াতের জন্য সবসময় নদীপথকেই বেছে নেই। খুব বেশি প্রয়োজন না পড়লে দূর যাত্রায় গাড়িতে চড়ি না। হঠাৎ একটি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে ঢাকায় রওনা দিতে হবে। শেষ বিকেলে লঞ্চে উঠলাম। অসংখ্য পরিচিত-অপরিচিত মানুষ দেখতে আমার ভিষণ ভালো লাগে। বিশেষ করে সন্ধ্যা যত ঘনিয়ে আসে লঞ্চের ভিতর তত মানুষের সমাগম হয়। বিভিন্ন রকম খাবার নিয়ে হকার পায়চারী করে। চানাচুর, রুটি, কলা, সেদ্ধ ডিম সহ বিভিন্ন রকম খাবারের আয়োজন থাকে। হকাররা সাধারণত ঘুরে ঘুরে এসব খাবার সবাইকে পরিবেশন করে। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের ঠাই হয় এসব লঞ্চগুলোতে।

বর্তমানে বরিশাল থেকে বিলাসবহুল অসংখ্য লঞ্চ যাতায়াত করে। যেমন: পারাবাত, সুরভী, মানামী, সুন্দরবন, প্রিন্স আওলাদ, এডভেঞ্জার ইত্যাদি। বেশ বিলাসবহুল এসব লঞ্চে প্রথম তলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত আধুনিক মান সম্মত লিফট বসানো থাকে। শুধু কি তাই লঞ্চের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় রয়েছে মানসম্মত কেবিন। এসব কেবিন সিঙ্গেল ও ডাবল। শুধু তাই নয় রয়েছে আয়েশী সোফার ব্যবস্থা। মানসম্মত ইন্টরিয়র ডিজাইন দিয়ে তৈরি করা আছে ভিআইপি কেবিন। সাথে রয়েছে ছোট্ট সোনামনিদের জন্য মনমুগ্ধকর গিমিং জোন। সবমিলিয়ে লঞ্চ ভ্রমণ বেশ ভালো লাগার মতো একটি বিষয়।

লঞ্চের ডেকে একটি চাদর বিছালাম। সাথে পানি ও রাতের খাবার আছে। একজন মানুষের জন্য যতটুকু জায়গা প্রয়োজন ঠিক ততটুকু জায়গা নিলাম। আস্তে আস্তে ভির বারছে। নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আসছে লঞ্চে। আমার পাশেই দেখলাম একটি সুন্দর চাদর বিছানো। সন্ধ্যার পরে দেখালাম সেই সিটে একজন ভদ্রলোক ও তার স্ত্রী আসলেন। সাথে ছোট একটি বাচ্চা। ভদ্রলোক বিছানায় পা দিতেই দেখতে পেলেন আমার চাদরের সামান্য অংশ তার চাদরের উপরে পড়েছে। যা লঞ্চ ভ্রমণে খুব সাধারণ একটি বিষয়। কিন্তু উনি সেটা দেখেই আমার দিকে তেরে আসলেন। আর বলে উঠলেন আমার জায়গায় কেন আপনার বিছানার চাদর। রাগে উনি আমার চাদর এর একপাশ ধরে ছুড়ে মারলেন। এমন পরিস্থিতিতে আমি বেশ হতভম্ভ হয়ে পড়লাম। খেয়াল করলাম ওনার চোখ দুটো বেশ ছানাবড়া হয়ে আছে।

গত ত্রিশ বছরের অধিক সময় লঞ্চ ভ্রমণ করে আসছি। সেই ছোট থেকে এ পর্যন্ত। অসংখ্য মানুষ দেখেছি কিন্তু এমন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়নি আমাকে। ভদ্রলোক সম্ভবত বিদেশ থাকেন। দামী লাগেজ আর পোশাক পরিচ্ছেদও বেশ আধুনিক। সম্ভবত পয়সাওয়ালা মানুষ হবেন। ভদ্রলোকের এমন আচরণ আমার কাছে কেবল টাকার গড়ম বলেই মনে হয়েছে। যাই হোক ভদ্রলোকের এমন আচরণে অন্য কেউ হলে হয়তো তার সাথে খারাপ ভাবে উত্তর দিতেন। হয়তো ঝগড়া বাধিয়ে ফেলতেন কিংবা অপমানিত করতেন। কিন্তু আমি কিছুটা শান্ত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চিন্তা করলাম। কিভাবে ওনাকে সুন্দরভাবে এমন আচরণের উত্তর দেওয়া যায়।

তাই মনে মনে ঠিক করলাম, আমি ঐ ভদ্রলোকের এমন আচরণের উত্তর অত্যন্ত সুন্দরভাবে দিতে চাই। আমি আমার হাত দুটোকে উচু করলাম। যেভাবে ক্ষমা ভিক্ষা চাওয়া হয় ঠিক সেভাবে। আর হাতজোর করে বললাম, আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমি আসলে খেয়াল করিনি যে চাদরটি আপনার জায়গায় চলে গেছে। কথাগুলো শোনার পর লক্ষ্য করলাম ওনার আগের মত আমার উপর রাগ নেই। মনে হচ্ছে ওনার কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেছে। আমি হাত দিয়ে আমার চাদর গুছিয়ে আনলাম এবং ভদ্রলোক কে জিজ্ঞেস করলাম ভাই আরও সরাতে হবে কি? অনুগ্রহ করে জানাবেন।

উনি আর কোন কথা বললেন না। সম্ভবত বিষণভাবে লজ্জিত হয়েছেন। আর একটি কথাও বললেন না। বিয়ষগুলো ওনার স্ত্রী চেয়ে চেয়ে দেখছিলেন। ওনার হয়তো অনেক টাকা যা আমার নেই। কিন্তু আমি আমার জায়গায় ওনার কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নিয়েছি। আমার বাবা সবসময় বলেন, রাগে রাগ বাড়ে, ঝগড়ায় ঝগড়া। বাবা সবসময় বলেন, সবসময় ঠকে আসবে, কখনও মানুষের সাথে জয়ী হতে যাবে না। কারণ মানুষ তোমাকে জয়ী বানানোর কেউ না। মহান আল্লাহ যদি তোমাকে জয়ী করে তবে পৃথিবীর কারও সাধ্য নাই তোমাকে হারাবে।

কখনও কখনও আমরা আমাদের লোভ, হিংসা, অহংকার, অহমিকা, ক্ষমতা আর টাকার প্রভাবে ভুলেই যাই আমরা মানুষ। এই পৃথিবীটা অনেক সুন্দর। একটু সুন্দর ভাবে চিন্তা করলে আমরা সবাই সুখী হতে পারি। জীবন চলার পথে কাউকে না কাউকে তো একটু ছাড় কিংবা ত্যাগস্বীকার করতে হয়। মানুষ হয়ে মানুষের জন্য যদি এই সামান্য ত্যাগটুকুই না করতে পারি তবে মানুষ নামটিই যে বড় কলঙ্কিত হয়। আসুন আমাদের একটু স্বার্থ পরিহার করে সবার সাথে সুন্দর ব্যবহার করি। সবার সাথে আর যাই হোক খারাপ ব্যবহার না করি। একটু ত্যাগস্বীকার করার চেষ্টা করি। এই ধরণীর বুকে নেমে আসুক অনাবিল সুখ, স্বাচ্ছন্দ। সবাই সবার জন্য কাজ করি। সবার জীবন হোক সুখময়।


লেখক: মোঃ রিসালাত মীরবহর
সম্পাদক, অবেলার ডাক সবার জন্য সাহিত্য
বরিশাল, বাংলাদেশ।


ভিডিও কনটেন্ট নিয়মিত পেতে: ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন [Click]


📌 সম্ভব হলে পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন।

✅আজ এ পর্যন্তই, ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Writer & Editor: Obalardak
E-mail:
 obalardak@gmail.com
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]

বিজ্ঞাপন: ০৩ [Top]



বিজ্ঞাপন: ০৪ [Below]

বিজ্ঞাপন: ০৫

বিজ্ঞাপন: ০৬