
অবেলার ডাক।। খাবার খেতে কেইবা অপছন্দ করে। বিশেষ করে বিভিন্ন রকম রান্না করা সুস্বাদু খাবার খেতে অনেকেই বেশ অভ্যস্ত। এই তালিকায় অনেকেই ভাজা-পোড়া ঝালযুক্ত খাবার পছন্দ করেন। তাই নিয়মিত ভাজা-পোড়া ও ঝালযুক্ত খাবার প্রতিদিনের তালিকায় রাখেন সচারচার। ফলে নিয়মিত অতিরিক্ত ঝালযুক্ত খাবার আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকি তৈরি করে। বিশেষ করে পেটের সমস্যা থেকে শুরু করে নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে ঝাল খাবার খাওয়ার পর মুখের ভেতর জ্বালাপোড়া, ঠোঁট বা চোখ জ্বলা এগুলো বেশ পরিচিত অনুভূতি। কিন্তু ঝাল খাবার আমাদের শরীরে আরও নানা ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে যেগুলো আমরা সাধারণত অনেক সময় বুঝতে পারি না। বেশি ঝাল খাওয়া একটা অভ্যস্ততার ব্যাপার। এ ধরণের খাবার অনেকেরই প্রিয়। তবে যারা এটি খেতে অভ্যস্ত নয় তাদের জন্য এ ধরণের খাবার হতে পারে যন্ত্রণার কারণ।
ঝাল খাবার শরীরের ওপর কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আমাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত। ঝাল খাবারে থাকা ক্যাপসাইসিন নামে একটি বিশেষ উপাদান। এই উপাদানটি মুখে পৌঁছানোর পর শরীরের রিসেপটরগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। আর এতেই আমরা অনুভব করি তীব্র জ্বালাপোড়া। আমাদের ত্বক, মুখ, পেট সব জায়গাতেই এই ক্যাপসাইসিনের প্রভাব পড়তে পারে। এই অনুভূতি অনেকের কাছে স্বাভাবিক হলেও যারা ঝাল খাবারের সঙ্গে পরিচিত নন, তাদের জন্য এটি অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়ায়।
তাই ঝাল খেলে হতে পারে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে ঝাল খাবার বেশি খাওয়া হলে অনেকেরই পেটে অস্বস্তি, গ্যাস বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা হতে পারে। যারা আগে থেকে হজমের সমস্যায় ভুগছেন এটি তাদের জন্য আরও খারাপ সমস্যার সৃষ্টি করে। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্যাপসাইসিন পেটে অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া তৈরি এবং হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এমনটি টক ঢেকুর এর সাথে পেটে ও বুকে প্রচন্ড জ্বালা-পোড়া শুরু হতে পারে। যা দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্য ঝকি তৈরি করে।
সরাসরি আলসার সৃষ্টি না করলেও যাদের ইতিমধ্যে এই সমস্যা রয়েছে, ঝাল খাবার তাদের জন্য আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। আলসারের রোগী হলে ঝাল খাবারের কারণে পেটে আরও বেশি যন্ত্রণা হতে পারে। তাই এ ধরনের সমস্যা থাকলে ঝালযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলািই ভালো।
ঝাল খাবারের প্রভাব মুখের ভেতর শুরু হলেও এটি শেষ হয় পেটে। সেখানে এটি হজমের গতি বাড়িয়ে দিতে পারে। এ থেকে তৈরি হতে পারে ডায়রিয়ার মতো সমস্যা। এ ছাড়া ঝাল খাবার খাওয়ার পর পেটে অস্বস্তি এবং গ্যাস তৈরি হতে পারে। এমনকি নিয়মিত ঝালযুক্ত খাবার মুখের ঘা তৈরি করতে পারে। তাছাড়া ঝাল স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। ফলে এ থেকে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এছাড়া ঝালযুক্ত খাবার খাওয়ার পর কিছু মানুষের মাথায় তীব্র ব্যথা হতে পারে। এ ধরণের মাথা ব্যথাকে থান্ডারক্ল্যাপ হেডেক বলা হয়। এটি তীব্র এবং হঠাৎ শুরু হয়। এ ধরণের মাথাব্যথা শুরু হয় মূলত রক্ত সঞ্চালনের হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে। এ কারণে স্বাভাবিক রক্তচাপের পরিমাণেও বদল আসতে পারে।
যাদের আগে থেকে পেটের সমস্যা রয়েছে তাদের ঝালযুক্ত খাবার অবশ্যই পরিহার করা উচিত। কারণ এ ধরনের খাবার পেটের সমস্যাকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে তীব্র পেট ব্যথা, ডায়রিয়া এবং বমি হতে পারে। তাই যদি আপনি এ ধরনের কোনো সমস্যা ভুগে থাকেন, তবে ঝালযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
মোটকথা, ঝাল খাবার খাওয়ায় শরীরের কিছু উপকার হয় বটে। তবে যদি এটি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া হয় বা এ ধরণের খাবার খাওয়া শরীর সহ্য করতে না পারে, তাহলে এটি বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই ঝাল খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করুন। অতীত অভিজ্ঞা থেকে ভাবুন এ ধরণের খাবার আপনি কতটুকু খেতে পারেন। এ ধরণের খাবারে আপনার শরীরে কেমন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় তাও খেয়াল করুন।
Risalat Mirbahar
Writer & Editor: Obalardak
E-mail: obalardak@gmail.com,
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]
Writer & Editor: Obalardak
E-mail: obalardak@gmail.com,
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]

