Hot Widget


Type Here to Get Search Results !

Headline

Notice: “আসুন মাদক ছাড়ি, কলম ধরি, দুর্নীতিমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ি”। To read this website in your country's language, please change the language. Contact us for advertising: +8801516332727 (What's App) Thank you.

অবেলার ডাক এর অর্থ, তাৎপর্য ও বিশ্লেষণ


অবেলার ডাক।। কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত একটি কবিতার নাম হচ্ছে ‘অবেলার ডাক’। এটি প্রিয় কবি নজরুলের একটি চমৎকার ও অনবদ্য সৃষ্টি। কবিতাটির গভীরে আত্মিক অনুশোচনা, ব্যর্থতা এবং স্রষ্টার প্রতি গভীর ভালোবাসার এক মর্মস্পর্শী কথার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ‘অবেলার ডাক’ কবিতাটি ভাবাদর্শ বিস্তারিত বুঝতে হলে এটিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করতে হবে। যার প্রথমাংশে রয়েছে, অনুতাপ ও স্মৃতি। মধ্যাংশে রয়েছে, আত্মসমালোচনা ও ব্যথার স্বীকারোক্তি। আর শেষাংশে রয়েছে আত্মবিসর্জন ও পুনর্জন্মের আকাঙ্ক্ষা।

কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ‘অবেলার ডাক’ এক হৃদয়ভাঙা আত্মার দীর্ঘশ্বাস। যেখানে ভালোবাসা, অবহেলা, অনুতাপ ও আত্মবিসর্জনের মিশ্রণে গঠিত হয়েছে এক অনন্ত ব্যথার সংগীত। এই কবিতায় কবি যেন নিজের অন্তর্গত আর্তনাদের রূপ দিয়েছেন। যে মানুষ একদিন ভালোবাসাকে অবজ্ঞা করেছিল, আজ সে নিজেই ভালোবাসার অনুপস্থিতিতে ভস্ম হয়ে যাচ্ছে। পুরো কবিতাটি যেন এক আত্মার আখ্যান। অবহেলা থেকে অনুতাপে, অনুতাপ থেকে আত্মসমালোচনায়, আর শেষে আত্মবিসর্জনের মধ্য দিয়ে আত্মার পুনর্জন্মের উত্তরণের প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রথমাংশ: অনুতাপ ও স্মৃতি
কবিতার সূচনালগ্নে কবি অনুতাপের আগুনে জ্বলছেন। যে প্রেমকে তিনি একদিন হেলায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, আজ সেই প্রেমই ফিরে আসে তাঁর স্মৃতির অলিন্দে ‘অবেলায়’। এই অবেলা মানে শুধু সময়ের শেষ নয়, এ যেন জীবনের এমন এক পর্যায়, যখন ভালোবাসার অমোঘ সত্যটি স্পষ্ট হয়, কিন্তু ফিরে যাওয়ার আর কোনো পথ থাকে না। কবি স্মরণ করেন সেই প্রিয়জনকে, যিনি একদিন ভালোবেসে চুম্বনে ঘুম পাড়াতেন, যার আদরকে তিনি অহংকারে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আজ সেই একই আদর হয়ে দাঁড়িয়েছে অগ্নিশিখা, যা স্মৃতির বুক জুড়ে জ্বালায় দিচ্ছে অনন্ত দহন। এই অংশে কবির কণ্ঠে এক অনন্ত আর্তি ভালোবাসার মূল্য বোঝা যায় শুধু হারানোর পরেই।

মধ্যাংশ: আত্মসমালোচনা ও ব্যথার স্বীকারোক্তি
মধ্যভাগে কবি যেন নিজের বিবেকের আদালতে দাঁড়িয়ে স্বয়ং স্বীকার করছেন নিজের অপরাধ। তিনি যে প্রেমিককে ‘ভিখারী’ ভেবেছিলেন, আজ বুঝতে পারছেন সে ছিল প্রেমের ‘রাজাধিরাজ’ অর্থাৎ মানবপ্রেমের পরম প্রতীক। কবি বলেন, তাঁর দরজায় দেবতা এসেছিলেন ভিক্ষাবেশে, আর তিনি চিনতে পারেননি তাঁকে। এই অনুধাবনই তাঁর আত্মায় জাগায় ভীষণ অনুশোচনা আর অনুতাপ। এই অংশে কবির ব্যথা শুধু প্রেমিক হারানোর নয়, বরং নিজেকে হারানোর। যে মানুষ একসময় ভালোবাসার আহ্বান উপেক্ষা করেছিল, আজ সে বুঝেছে অহংকারই ছিল তার পতনের কারণ। নিজের চোখে যে অশ্রু এখন ঝরে, তা একসময় সেই প্রিয়জনের চোখে ঝরেছিল তারই অবহেলায়। এই আত্মসমালোচনায় কবি পরিণত হয়েছেন এক আত্মিক তপস্বীতে, যিনি ভালোবাসাকে এখন দেখছেন আত্মার পরিশুদ্ধির এক উত্তম উপায় হিসেবে।

শেষাংশ: আত্মবিসর্জন ও পুনর্জন্মের আকাঙ্ক্ষা
শেষভাগে কবি আত্মবিসর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় কাতর। তিনি অনুভব করেন যে ভালোবাসাকে একদিন দূরে ঠেলে দিয়েছিলেন, সেই ভালোবাসাই আজ তাঁর মুক্তির একমাত্র পথ। তাই তিনি চূড়ান্ত আত্মসমর্পণের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। ‘আজ পেলে তাঁয় হুমড়ি খেয়ে পড়তুম মাগো যুগল পদে’। এখানে কবির কণ্ঠে শুধু প্রেমিক নয়, এক ভগ্নমানবের আত্মা কথা বলে, যে আত্মা প্রেমের মধ্য দিয়েই মুক্তি খোঁজে। তিনি চান মৃত্যু নয়, বরং পুনর্জন্ম। এক নতুন আত্মসত্তায়, যেখানে আর কোনো অহংকার থাকবে না, থাকবে শুধু ভালোবাসার শুদ্ধ আলো। এভাবে কবিতা শেষ হয় আত্মদানের মধ্য দিয়ে, যা এক নতুন জীবনের, এক আত্মিক মুক্তির দিশা দেয়।

সার্বিকভাবে এর তাৎপর্য দাঁড়ায়:
‘অবেলার ডাক’ কেবল এক প্রেমবিরহের কবিতা নয়। এটি মানুষের অন্তর্গত রূপান্তরের গল্প। প্রথমে আছে অনুতাপ, তারপর আত্মসমালোচনা, আর সব শেষে আত্মবিসর্জনের মধ্য দিয়ে পুনর্জন্মের আকাঙ্ক্ষা। নজরুল এখানে প্রেমকে কেবল দেহগত অনুভূতি নয়, বরং এক আত্মিক সাধনা হিসেবে দেখিয়েছেন। ভালোবাসাকে অবহেলা করলে, মানুষের আত্মা নিজের ভেতরেই দগ্ধ হয়। কিন্তু সেই দহনই আবার সৃষ্টি করে এক নতুন আলো। যা মানুষকে করে তোলে বিনয়ী, মানবিক আর নিয়ে যায় ঈশ্বরের কাছাকাছি।

পরিশেষে বলা যায় ‘অবেলার ডাক’ আমাদের শেখায়, ভালোবাসার সময়কে অবহেলা করা মানে নিজের হৃদয়ের আলো নিভিয়ে ফেলা। যে মানুষ সত্যিকার ভালোবাসার মূল্য বোঝে না, সে একসময় নিজের মধ্যেই হারিয়ে যায়। কিন্তু অনুতাপের অগ্নিস্নান শেষে যে আত্মা উঠে দাঁড়ায়, তার প্রেম হয় শুদ্ধ, নির্মল আর অনন্ত। সেই প্রেমেই নিহিত মানবজীবনের সত্য সৌন্দর্য।

অবেলার ডাক। স বা র জ ন্য সা হি ত্য
মূলত মানবতার কবি, দ্রোহের কবি, ভালোবাসার কবি নজরুলের এই কবিতার মূল অর্থ ধরেই ‘অবেলার ডাক’ সম্পাদক মোঃ রিসালাত মীরবহর ২০২২ সালে সারাদেশে ‘অবেলার ডাক’ সাহিত্য নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন। কবির লেখা ‘অবেলার ডাক’ এর ‘অবেলা’ শব্দটি মূলত এখানে  জীবনের শেষ সময়কে নির্দেশ করে। মানুষের জীবনে কখনও কখনও প্রেম ধরা দেয় খুব সহজে। কিন্তু সেই সহজ প্রেম কে মানুষ গুরুত্ব না দিয়ে বরং অবহেলায় ফিরিয়ে দেয় তীব্র অহংকারে। ফলে একসময় হারানো ভালোবাসার গুরুত্ব বুঝতে পেরে মানুষ অনুশোচনায় বা অনুতাপে ভোগেন। যে প্রেম কিংবা ভালোবাসা পাওয়া মানুষের জন্য একসময় ছিল খুব সহজ সাধ্য বিষয়, তা একসময় হয়ে ওঠে অনেক বেশি কঠিন। অর্থাৎ মানুষ খুব সহজে যে ভালোবাসা একসময় উপভোগ করতে পারতো নিরবধি তা তখন তীব্র অহংকার আর অবহেলায় হারায়। ফলে অবহেলা আর অহংকারে হারানো তার এই ভালোবাসা কোন একসময় ধরা দেয় তীব্র অনুশোচনা আর অনুতাপে। আর তাই মানুষ অবেলায় এসে তার এই ভুল বুঝতে পেরে অনেক বেশি কষ্ট পায়। প্রিয় কবি নজরুলের ‘অবেলার ডাক’ কবিতার এই চমৎকার তাৎপর্য আমাদেরকে অনেকি কিছু শিখিয়ে যায়। প্রিয় কবির প্রতি রইলো অফুরন্ত শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসা।

কবিতাটির ভাবার্থ বিশ্লেষণ করেছেন:


মোসাঃ শামীমা বেগম 
মাষ্টার্স প্রথম বর্ষ, সিলেট এম.সি কলেজ
সিলেট, বাংলাদেশ।


মোঃ রিসালাত মীরবহর
সম্পাদক, অবেলার ডাক। সবার জন্য সাহিত্য
বরিশাল সদর, বরিশাল, বাংলাদেশ।

অবেলার ডাক
কাজী নজরুল ইসলাম।

অনেক ক’রে বাসতে ভালো পারিনি মা তখন যারে,
আজ অবেলায় তারেই মনে পড়ছে কেন বারে বারে।।

আজ মনে হয় রোজ রাতে সে ঘুম পাড়াত নয়ন চুমে,
চুমুর পরে চুম দিয়ে ফের হান্‌তে আঘাত ভোরের ঘুমে।
ভাব্‌তুম তখন এ কোন্‌ বালাই!
কর্‌ত এ প্রাণ পালাই পালাই।
আজ সে কথা মনে হ’য়ে ভাসি অঝোর নয়ন-ঝরে।
অভাগিনীর সে গরব আজ ধূলায় লুটায় ব্যথার ভারে।।

তর”ণ তাহার ভরাট বুকের উপ্‌চে-পড়া আদর সোহাগ
হেলায় দু’পায় দ’লেছি মা, আজ কেন হায় তার অনুরাগ?
এই চরণ সে বক্ষে চেপে
চুমেছে, আর দু’চোখ ছেপে
জল ঝ’রেছে, তখনো মা কইনি কথা অহঙ্কারে,
এম্‌নি দার”ণ হতাদরে ক’রেছি মা, বিদায় তারে।।

দেখেওছিলাম বুক-ভরা তার অনাদরের আঘাত-কাঁটা,
দ্বার হ’তে সে গেছে দ্বারে খেয়ে সবার লাথি-ঝাটা।
ভেবেছিলাম আমার কাছে
তার দরদের শানি- আছে,
আমিও গো মা ফিরিয়ে দিলাম চিন্‌তে নেরে দেবতারে।
ভিক্ষুবেশে এসেছিল রাজাধিরাজ দাসীর দ্বারে।।

পথ ভুলে সে এসেছিল সে মোর সাধের রাজ-ভিখারী,
মাগো আমি ভিখারিনী, আমি কি তাঁয় চিন্‌তে পারি?
তাই মাগো তাঁর পূজার ডালা
নিইনি, নিইনি মণির মালা,
দেব্‌তা আমার নিজে আমায় পূজল ষোড়শ-উপচারে।
পূজারীকে চিন্‌লাম না মা পূজা-ধূমের অন্ধকারে।।

আমায় চাওয়াই শেষ চাওয়া তার মাগো আমি তা কি জানি?
ধরায় শুধু রইল ধরা রাজ-অতিথির বিদায়-বাণী।
ওরে আমার ভালোবাসা!
কোথায় বেঁধেছিলি বাসা
যখন আমার রাজা এসে দাঁড়িয়েছিল এই দুয়ারে?
নিঃশ্বসিয়া উঠছে ধরা, ‘নেই রে সে নেই, খুঁজিস কারে!’

সে যে পথের চির-পথিক, তার কি সহে ঘরের মায়া?
দূর হ’তে মা দূরন-রে ডাকে তাকে পথের ছায়া।
মাঠের পারে বনের মাঝে
চপল তাহার নূপুর বাজে,
ফুলের সাথে ফুটে বেড়ায়, মেঘের সাথে যায় পাহাড়ে,
ধরা দিয়েও দেয় না ধরা জানি না সে চায় কাহারে?

মাগো আমায় শক্তি কোথায় পথ-পাগলে ধ’রে রাখার?
তার তরে নয় ভালোবাসা সন্ধ্যা-প্রদীপ ঘরে ডাকার।
তাই মা আমার বুকের কবাট
খুলতে নারল তার করাঘাত,
এ মন তখন কেমন যেন বাসত ভালো আর কাহারে,
আমিই দূরে ঠেলে দিলাম অভিমানী ঘর-হারারে।।

সোহাগে সে ধ’রতে যেত নিবিড় ক’রে বক্ষে চেপে,
হতভাগী পারিয়ে যেতাম ভয়ে এ বুক উঠ্‌ত কেঁপে।
রাজ ভিখারীর আঁখির কালো,
দূরে থেকেই লাগ্‌ত ভালো,
আসলে কাছে ক্ষুধিত তার দীঘল চাওয়া অশ্র”-ভারে।
ব্যথায় কেমন মুষড়ে যেতাম, সুর হারাতাম মনে তরে।।

আজ কেন মা তারই মতন আমারো এই বুকের ক্ষুধা
চায় শুধু সেই হেলায় হারা আদর-সোহাগ পরশ-সুধা,
আজ মনে হয় তাঁর সে বুকে
এ মুখ চেপে নিবিড় সুখে
গভীর দুখের কাঁদন কেঁদে শেষ ক’রে দিই এ আমারে!
যায় না কি মা আমার কাঁদন তাঁহার দেশের কানন-পারে?

আজ বুঝেছি এ-জনমের আমার নিখিল শানি–আরাম
চুরি ক’রে পালিয়ে গেছে চোরের রাজা সেই প্রাণারাম।
হে বসনে-র রাজা আমার!
নাও এসে মোর হার-মানা-হারা!
আজ যে আমার বুক ফেটে যায় আর্তনাদের হাহাকারে,
দেখে যাও আজ সেই পাষাণী কেমন ক’রে কাঁদতে পারে!

তোমার কথাই সত্য হ’ল পাষাণ ফেটেও রক্ত বহে,
দাবাললের দার”ণ দাহ তুষার-গিরি আজকে দহে।
জাগল বুকে ভীষণ জোয়ার,
ভাঙল আগল ভাঙল দুয়ার
মূকের বুকে দেব্‌তা এলেন মুখর মুখে ভীম পাথারে।
বুক ফেটেছে মুখ ফুটেছে-মাগো মানা ক’র্‌ছ কারে?

স্বর্গ আমার গেছে পুড়ে তারই চ’লে যাওয়ার সাথে,
এখন আমার একার বাসার দোসরহীন এই দুঃখ-রাতে।
ঘুম ভাঙাতে আস্‌বে না সে
ভোর না হ’তেই শিয়র-পাশে,
আস্‌বে না আর গভীর রাতে চুম-চুরির অভিসারে,
কাঁদাবে ফিরে তাঁহার সাথী ঝড়ের রাতি বনের পারে।

আজ পেলে তাঁয় হুম্‌ড়ি খেয়ে প’ড়তুম মাগো যুগল পদে,
বুকে ধ’রে পদ-কোকনদ স্নান করাতাম আঁখির হ্রদে।
ব’সতে দিতাম আধেক আঁচল,
সজল চোখের চোখ-ভরা জল-
ভেজা কাজল মুছতাম তার চোখে মুখে অধর-ধারে,
আকুল কেশে পা মুছাতাম বেঁধে বাহুর কারাগারে।

দেখ্‌তে মাগো তখন তোমার রাক্ষুসী এই সর্বনাশী,
মুখ থুয়ে তাঁর উদার বুকে ব’লত,‘ আমি ভালোবাসি!’
ব’ল্‌তে গিয়ে সুখ-শরমে
লাল হ’য়ে গাল উঠত ঘেমে,
বুক হ’তে মুখ আস্‌ত নেমে লুটিয়ে যখন কোল-কিনারে,
দেখ্‌তুম মাগো তখন কেমন মান ক’রে সে থাক্‌তে পারে!

এম্‌নি এখন কতই আমা ভালোবাসার তৃষ্ণা জাগে
তাঁর ওপর মা অভিমানে, ব্যাথায়, রাগে, অনুরাগে।
চোখের জলের ঋণী ক’রে,
সে গেছে কোন্‌ দ্বীপান-রে?
সে বুঝি মা সাত সমুদ্দুর তের নদীর সুদূরপারে?
ঝড়ের হাওয়া সেও বুঝি মা সে দূর-দেশে যেতে নারে?

তারে আমি ভালোবাসি সে যদি তা পায় মা খবর,
চৌচির হ’য়ে প’ড়বে ফেটে আনন্দে মা তাহার কবর।
চীৎকারে তার উঠবে কেঁপে
ধরার সাগর অশ্র” ছেপে,
উঠবে ক্ষেপে অগ্নি-গিরি সেই পাগলের হুহুঙ্কারে,
ভূধর সাগর আকাশ বাতাস ঘুর্ণি নেচে ঘিরবে তারে।

ছি, মা! তুমি ডুকরে কেন উঠছ কেঁদে অমন ক’রে?
তার চেয়ে মা তারই কোনো শোনা-কথা শুনাও মোরে!
শুনতে শুনতে তোমার কোলে
ঘুমিয়ে পড়ি। – ও কে খোলে
দুয়ার ওমা? ঝড় বুঝি মা তারই মতো ধাক্কা মারে?
ঝোড়ো হওয়া! ঝোড়ো হাওয়া! বন্ধু তোমার সাগর পারে!

সে কি হেথায় আসতে পারে আমি যেথায় আছি বেঁচে,
যে দেশে নেই আমার ছায়া এবার সে সেই দেশে গেছে!
তবু কেন থাকি’ থাকি’,
ইচ্ছা করে তারেই ডাকি!
যে কথা মোর রইল বাকী হায় যে কথা শুনাই কারে?
মাগো আমার প্রাণের কাঁদন আছড়ে মরে বুকের দ্বারে!

যাই তবে মা! দেকা হ’লে আমার কথা ব’লো তারে-
রাজার পূজা-সে কি কভু ভিখারিনী ঠেলতে পারে?
মাগো আমি জানি জানি,
আসবে আবার অভিমানী
খুঁজতে আমায় গভীর রাতে এই আমাদের কুটীর-দ্বারে,
ব’লো তখন খুঁজতে তারেই হারিয়ে গেছি অন্ধকারে!

Risalat Mirbahar
Writer & Editor: Obalardak
E-mail:
 obalardak@gmail.com,
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]