মোঃ রিসালাত মীরবহর।। আমি প্রায়ই বাজার করতে যাই। বাসা থেকে কিছুটা দূরে বাজার। সাধারণত হেটেই বাজারে চলে যাই। হেটে যেতে অনেক ভালো লাগে আমার। কারণ রাস্তায় অনেক মানুষের সাথে দেখা হয়। অন্তত অনেক পরিচিতি অপরিচিত মানুষের সাথে আদপের সাথে সালাম বিনিময় করতে পারি। যদিও আমি এই শহরের স্থায়ী বাসীন্দা না। তবুও অনেকে আমাকে চেনেন। পথে হাটতে হাটতেই অনেকের সাথে পরিচয়। বাজারে মাঝে মধ্যেই একজন মুরুব্বী বয়সী মানুষের কাছ থেকে মাছ কেনা হয়। সম্ভবত আমার বাবার বয়সী বা তার চেয়ে একটু বয়স্ক হবেন। চোখে খুব বেশি ভালো দেখেন বিষয়টি এমন না। এই বয়সে তার বিশ্রামে থাকার কথা। কিন্তু জীবনের শেষ সময়টুকু উনি মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। খুব সুন্দর নুরানী চেহারা। দাড়ি, চুল, চোখের পাপড়ি ও ভ্রু গুলো সাদা ধবধবে। অত্যন্ত বিনয়ের সাথে কথা বলেন। ওনার মাছ মাপার যন্ত্রও নেই। অন্য দোকানীর কাছ থেকে মেপে তারপর মাছের মূল্য জানিয়ে দেন। সম্ভবত চোখে তেমন দেখেন না।
আজ অন্যদিনের মতো তার কাছ থেকে মাছ কিনতে গেলাম। উনি বললেন, মাছ ভালো হবে নিতে পারেন। মাছ ভালো হবে তা আমিও জানি। কারণ উনি অন্য দোকানির মতো বরফ দিয়ে মাছ বিক্রি করেন না। কিংবা যেখানে সেখানের নোংড়া পানিতে চাষ করা মাছ এনে বিক্রি করেন না। অল্প মাছ বিক্রি করেন কিন্তু মাছগুলো যেমন দেখতে ভালো তেমনি খেতেও। আবার অন্য দোকানীর চেয়ে বেশি মূলেও মাছ বিক্রি করেন না। কেউ যদি দাম কম বলে তবে উনি জানিয়ে দেন যে এই দামে বিক্রি করলে তার লাভ থাকবে না। হয়তো ১০-২০ টাকা বাড়িয়ে দিলে তার কিছুটা পোষাবে। আজ ওনার দোকান থেকে একটি পাঙ্গাস মাছ কিনলাম। মাছটি দেখতে সুন্দর এবং একদম ফ্রেশ। ওনার কাছ থেকে মাছ কিনলে মাছে বাজে কোন গন্ধ পাওয়া যায় না। খেতেও স্বাদ লাগে। আজ আমার মাছের দাম হয়েছে ৩১৭ টাকা। উনি জানালেন ৩০০ টাকা দিন। আমি ১০০০ টাকার একটি নোটি দিলাম। দেখলাম উনি ১০০০ টাকার নোটটি খুব ভালো করে এপাশ ওপাশ করে দেখলেন। এরপর আমি বললাম, মুরুব্বী কাকা টাকায় কোন সমস্যা নেই আল্লাহর রহমতে।
উনি জানালেন বাবা গত দু’দিন আগে একজন ১০০০ টাকার নোট দিয়েছেন মাছ কিনে। টাকাটা চালাতে পারিনি। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন? উনি জানালেন নোট খানা জাল ছিল। আমি বললাম, বলেন কি? হ্যাঁ বাবা এর আগেও বেশ কয়েবার হয়েছে এমন ঘটনা। চোখে ভালো দেখি না। ভিড়ের মধ্যে টাকা রাখি। অনেক সময় দেখার সময়ও পাই না। ক্রেতার তাড়াহুড়ো থাকে। আবার দেখলেও তা বুঝতে পারি না। তাই জাল টাকা পাই। পরে সেই টাকা চিরে পাশের খালে ফেলে দেই যাতে আর কারও ক্ষতি না হয়।
কষ্ট লাগে এসব মানুষের কথাগুলো শুনলে। একজন বয়স্ক মানুষ যার বয়স সম্ভবত ৮০ এর উপরে। তাকেও আমরা ঠকাই। আর কবে মানুষ হবো আমরা? যে বা যারা এই কাজটি করে তারা বুঝে শুনেই এমন করে। হয়তো মানুষটি তার আর্থিক সমস্যার কারণে নেহাত বেঁচে থাকার তাগিদে এই বয়সে মাছ বিক্রি করতে বসছেন। অথচ আমরা কিছু মানুষ নামের অমানুষ আছি যারা তাকে ঠকাচ্ছি। এভাবে আমরা অনেকেই আমাদের চারপাশের মানুষগুলোকে বিভিন্ন ভাবে ঠকিয়ে নিজের স্বার্থে ভালো থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু মনে রাখবেন যারা এমনটি করেন তাদের অবশ্যই ফল ভোগ করতে হবে। কারণ মহান আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং উত্তম বিচারক।
বয়সের শেষ প্রান্তে এসে মাছ বিক্রি করা এই মানুষটির প্রতি ভালোবাসা রইলো, রইলো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। হয়তো তিনি তার অর্জিত অর্থ দিয়ে পরিবারের জন্য কিছু কিনে নিয়ে যাবেন। পরিবারকে একটু সুখে রাখার জন্য, একটু ভালো রাখার জন্য। দোয়া করি এই মানুষটির জন্য। ভালো থাকুক এই মানুষটি সুস্থ থাকুক। আর ধিক্কার জানাই সেসব মানুষগুলো কে যারা এই বয়স্ক মানুষটি কে ঠকিয়ে যাচ্ছেন। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। যাতে করে এভাবে একজন বয়স্ক মানুষ কে আর ঠকতে না হয়। দিন শেষে সে যেন তার সঠিক প্রাপ্য বুঝে পায়। আসুন আমরা আমাদের নিজেদের বদলাই। বদলাই আমাদের সমাজ কে। সুন্দর ও সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে আমরা আমাদের সুন্দর পৃথিবী গড়ি। যে পৃথিবীতে আর কোন বয়স্ক মানুষ কে কারও দ্বারা ঠকতে হবে না।
মানুষ নামে মানুষ মোরা
কলঙ্কে ভরা আজ,
মানুষের ক্ষতি করাই বুঝি
মানুষ মোদের কাজ।
আরও পড়ুন: পরকীয়া।
আরও পড়ুন: মুমিনের পতন।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে: ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন [Click]।
📌 সম্ভব হলে পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন।
✅আজ এ পর্যন্তই, ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
Writer & Editor: Obalardak
E-mail:obalardak@gmail.com
Barishal Sadar, Barishal, BangladeshE-mail:obalardak@gmail.com
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]




.png)