অবেলার ডাক।। এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক হান কাং। সাহিত্যে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাবান এ পুরস্কারের জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়। করার কারণ হিসেবে নোবেল কমিটি বলেছেন, হান কাংয়ের গদ্য তীক্ষ্ণ ও কাব্যময় দ্বারা আবৃত। যাতে ইতিহাসের যন্ত্রণাবিদ্ধ বিষয়ের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে বোঝাপড়ার প্রচেষ্টা আছে। এছাড়া তিনি তাঁর গদ্যে মানবজীবনের ভঙ্গুরতার কথাও তুলে আনতে পেরেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সাময়িকীতে একগুচ্ছ কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে ৫৩ বছর বয়সী হান কাংয়ের লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। ১৯৯৫ সালে তাঁর একটি ছোটগল্প সংকলন বের হয়। আর সেটির মধ্য দিয়েই তাঁর গদ্য পাঠকের মনে জায়গা করে নেয়।পরে হান কাং দীর্ঘাকার গদ্য লিখতে শুরু করেন। ‘দ্য ভেজেটারিয়ান’ তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বইয়ের একটি। ২০০৭ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসের জন্য ২০১৬ সালে ম্যান বুকার পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। এ উপন্যাসে হান কাং মানুষের নিষ্ঠরতায় আতঙ্কিত এক তরুণীর ‘বৃক্ষের মতো’ বেঁচে থাকার লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন।
১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার কমিটি সাহিত্যে পুরস্কার দিয়ে আসছে। হান কাংকে নিয়ে ১৮তম বারের মতো একজন নারী পুরস্কারটি পেলেন। প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ান হিসেবেও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন হান কাং। নোবেল পুরস্কার বোর্ড তাঁর পরিচিতি দিতে গিয়ে বলেছে, তিনি এমন একজন যিনি সঙ্গীত ও শিল্পকলার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। নোবেল কমিটি আরও বলেছে, মানুষের জীবনের নানা দিক নিয়ে এগিয়েছে হান কংয়ের অনুসন্ধিৎসু মন। তাই তাঁর কাজকে কোনো সীমানায় আটকে ফেলা যায় না।
তাঁর গদ্য কাব্যিক ও নিরীক্ষাময়। সমসাময়িক গদ্যসাহিত্যে তিনি একজন উদ্ভাবকের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছেন।


.png)