Hot Widget


Type Here to Get Search Results !

Headline

Notice: “আসুন মাদক ছাড়ি, কলম ধরি, দুর্নীতিমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ি”। To read this website in your country's language, please change the language. Contact us for advertising: +8801516332727 (What's App) Thank you.

ভূমিকম্পের বিপর্যয় এড়াতে ভাবতে হবে সবাইকে

 

মোঃ রিসালাত মীরবহর।। আমরা জানি ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং এর সূত্রপাত আকস্মিক ভাবে হয়ে থাকে। যুগ যুগ ধরে বহু দেশ ভূমিকম্প নামক প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলের সম্মুখীন হয়েছে। ফলে এসব দেশে বহু প্রাণহানি ও ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সবশেষ তুরস্ক ও সিরিয়ায় ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড হয়ে যায় দেশ দুটির ভূমিকম্প কবলিত এলাকার অধিকাংশ অবকাঠামো। সেই সাথে স্মরণকালের ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে মৃত্যের সংখ্যা চল্লিশ হাজার ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় হিমসিম খেতে হচ্ছে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দূর্যোগে চাপা পড়ছে অগনিত মানুষ। সৃষ্টি হয়েছে মানবিক এক বিপর্যয়। যা ১৯৩৯ সালের পর গত ৮৪ বছরে এমন ভূমিকম্প দেখেনি তুরস্কের জনগন। এর আগে তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে ১৯৩৯ সালে ৭.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যা ছিল দেশটিতে সর্বশেষ ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। ভূতাত্ত্বিকদের দাবী বিশ্বের ভূমিকম্প প্রবণ এলাকার মধ্যে তুরস্ক অন্যতম।

প্রতিবছরই বিশ্বের কোথাও না কোথাও ভূমিকম্প আঘাত হানছে। তাতে যেমন একদিকে বিধ্বস্ত হচ্ছে মানুষের ঘরবাড়ি তেমনি ঘটছে অগনিত প্রাণহানী। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের বাংলাদেশও রয়েছে মারাত্মক ঝুকিতে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা সবচেয়ে বেশি ঝুকিতে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প ইতিপূর্বে আঘাত হেনেছে। তার মধ্যে সিকিম রাজ্যে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্পের ফলে বাংলাদেশ অনেকটাই ঝুকির মধ্যে আছে । তাই এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সচেতন না হলে কিংবা মানুষকে সচেতন না করলে ভবিষ্যতে ঘটে যেতে পারে মারাত্মক বিপর্যয়।

তুরস্ক-সিরিয়ার ভূমিকম্পের এই ভয়াবতা থেকে আমাদের এখনই শিক্ষা নিতে হবে যাতে দূর্যোগ পূর্ববর্তী সচেতনতা তৈরির মধ্য দিয়ে ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়। যেহেতু ঢাকা আমাদের মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র। তাই ঢাকাতে যে অবকাঠামো গুলো রয়েছে সেগুলো আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দূর্ঘটনায় যাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হয় সেজন্য উচু ভবন তৈরির পূর্বে সেটা কতটা নিরাপদ তা জানতে হবে, বেসমেন্ট এর ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত উচ্চতায় ভবন নির্মাণে সচেতন হতে হবে, একটি বিল্ডিং তৈরিতে যে সমস্ত উপকরণ প্রয়োজন সেগুলো মানসম্মত আছে কিনা তা সঠিক ভাবে যাচাই করে নিতে হবে, অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাতে উঁচু বিল্ডিং নির্মাণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া যে সমস্ত বিষয়গুলি ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির কারণ কিংবা ঝুকির মধ্যে পড়ে সেগুলো সম্পর্কে গণ সচেতনতা বাড়াতে হবে।

তাছাড়া আকৎসিক এমন প্রাকৃতিক দূর্যোগে আমাদের কি ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে ভাবতে হবে। বিশেষ করে ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা কিংবা আধুনিক মানের প্রয়োজনীয় উদ্ধার সামগ্রী পর্যাপ্ত মজুদ রাখা কতটা জরুরী সে সম্পর্কে সরকারী ও ব্যক্তি পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। সরকারি উদ্ধারকর্মীর পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে নতুন উদ্ধারকর্মী সৃষ্টি করা ও তাদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদান করা। এছাড়া সেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে উদ্ধার তৎপরতার বিষয়ে সেমিনার ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের বিষয়টি হচ্ছে আমাদের রাজধানী ঢাকা কে ঘনবসতি মুক্তকরা।

অর্থাৎ রাজধানী ঢাকার যে সকল অফিস আদালত কিংবা কল-কারখানা রয়েছে সেগুলোর কর্মকান্ড গুলোকে যথাসম্ভব বিকেন্দ্রীকরণ করা। সম্ভব হলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো কে বিভাগ অথবা জেলা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। এতে করে রাজধানীর উপর মানুষের চাপ কমবে। ফলে আকস্মিক এ ধরনের দূর্ঘটনায় প্রাণহানি অনেকটাই কমে আসতে পারে। তাছাড়া উচু ভবন নির্মানের ক্ষেত্রে সরকারি নজরদারির পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতন করতে হবে। অন্যদিকে ঝুকিপূর্ণ ভবন গুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোর বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া।

তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে যে প্রাণহানি ঘটেছে তা সত্যিই খুব মর্মান্তিক। যেহেতু বাংলাদেশ ভূমিকম্প প্রবণ এলাকার মধ্যে একটি। তুরস্ক-সিরিয়ার এই ভূমিকম্পে ইতিমধ্যে ৪০ হাজারের বেশি মানুষের যে প্রাণহানী হয়েছে তা সাম্প্রতিকালের সবচেয়ে ভয়াবহ এক মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র। তাই এখনই সময় বাংলাদেশের সবাইকে সচেতেন হতে হবে, পাশাপাশি ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বিষয়টি নিয়ে সবার চিন্তা করা দরকার।

Risalat Mirbahar
Writer & Editor: Obalardak
E-mail:
 obalardak@gmail.com,
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +8801516332727 (What's App)
Copyright Ⓒ 2025 । All Right Reserved By Obalardak [Click More]