Hot Widget


Type Here to Get Search Results !

Headline

Notice: “আসুন মাদক ছাড়ি, কলম ধরি, দুর্নীতিমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ি”। To read this website in your country's language, please change the language. Contact us for advertising: +8801516332727 (What's App) Thank you.

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আমাদের করণীয়

অবেলার ডাক।। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় আমরা এর পূর্বে ও পরে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে পারি। এতে করে দূর্যোগকালীন অনেক ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।

☞ ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পূর্ব প্রস্তুতি:

১। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ আশ্রয়ে যান। যেমন: পাকাঘর বা বিল্ডিং অথবা বিশেষ করে সাইক্লোন সেন্টারে অবশ্যই আশ্রয় নিন।

২। ঘূর্ণিঝড়েরের সতর্কতা পেলে অবশ্যই বাড়িতে কয়েক দিন মজুত করে রাখা যায় এরকম শুকনো খাবার রাখুন। যেমন: চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট ইত্যাদি রাখবেন।

৩। জেলে নৌকা, লঞ্চ ও ট্রলারসহ সকল জলযানগুলোতে রেডিও ব্যবস্থা চালু রাখুন। যাতে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস শোনা মাত্র নদী বা সাগরে অবস্থান করা সকল জলযান নিয়ে দ্রুত নিরাপদে উপকূলে পৌছা যায়।

৪। ঘূর্ণিঝড়ের সময় কোন এলাকার লোক কোন আশ্রয়ে যাবে, গবাদিপশু কোথায় থাকবে, সবকিছু আগে থেকে ঠিক করে রাখুন। কাছে এবং দূরে যথা সম্ভব সব সুরক্ষিত জায়গাগুলো সবাই আগেই চিনে রাখুন।

৫। সম্ভব হলে সব সময় কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সাথে রাখুন। যেমন: ব্যান্ডেজ, ডেটল প্রভৃতি।

৬। আশ্রয়কেন্দ্রে বা অন্য আশ্রয়ে যাওয়ার সময় কী কী জিনিস সঙ্গে নেবেন আর কী কী জিনিস মাটিতে পুঁতে রাখবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। অতি প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী যেমন- চাল, ডাল, দেশলাই, শুকনো কাঠ, পানি ফিটকিরি, চিনি, নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধ, বইপত্র, ব্যান্ডেজ, তুলা, ওরস্যালাইন, দলিলপত্র, টাকা-পয়সা ইত্যাদি পানি নিরোধক পলিথিন ব্যাগে ভরে মাটিতে পুঁতে রেখে যেতে পারেন।

৭। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই আপনার ঘরগুলোর অবস্থা একবার পরীক্ষা করে নিন। আরও মজবুত করার জন্য মাটিতে খুঁটি পুঁতে দড়ি দিয়ে ঘরের বিভিন্ন অংশ বেঁধে রাখতে পারেন।

৮। পূর্বাভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সিপিপির (সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম) স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন।

৯। বাড়ি ছাড়ার পূর্বে অবশ্যই চুলা নিভিয়ে যাবেন কিংবা গ্যাসের লাইন ও সিলিন্ডারের চাবি বন্ধ করে যাবেন।

১০। বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধ ও খাওয়ার উপযোগী। তাই তা ভালোভাবে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করুন। এছাড়া জরুরী প্রয়োজনে দরকারী ওষুধ সংগ্রহে রাখুন।

১২। আপনার পাওয়ার ব্যাংক, চার্জার লাইট, টর্চ লাইট ফুল চার্জ দিয়ে রাখুন। যাতে প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা সম্ভব হয়। এছাড়া  মোমবাতি এবং লাইটার সাথেই রাখুন।

১৩। অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, টিভি ও রেডিও তে ঘূর্ণিঝড়ের খবর পেয়ে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থেকে নির্দেশনা শুনুন এবং সে অনুযায়ী কাজ করুন।

১৪। প্রচুর বজ্রপাতের কারণে ঘরের বৈদ্যুতিক আসবাব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই সেগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখুন। পাশাপাশি গ্যাসের চাবিও বন্ধ করে রাখুন।

১৫। দরজা জানালা বন্ধ রাখুন যেন বাইরে থেকে ময়লা বা ভারি কোনো কিছু উড়ে এসে আঘাত করতে না পারে।

১৬। অস্থিরভাবে দৌড়াদৌড়ি না করে যতো দ্রুত সম্ভব কাছাকাছি কোনো সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নিন।

১৭। রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। এছাড়াও ঝড় বাতাসে উপড়ে যাওয়া গাছ এবং বাতাসে উড়ে আসতে পারে এমন যে কোনো বস্তুর ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করুন। তবে এ সময় নিজ নিজ নিরাপদ বাসস্থানে থাকাই উত্তম।

১৮। রাস্তায় হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে গেলে শপিংমল, মসজিদ, স্কুল বা যেকোনো দালানে এ আশ্রয় নিন।

১৯। ফসলের মাঠে অথবা ক্ষেত-খামাড়ে কোন আবাদী ফসল থাকলে তা যথাসম্ভব ঘরে তোলার ব্যবস্থা করুন।

২০। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য পূর্ব থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং জরুরী প্রয়োজনে তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিন।

☞ ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী করণীয়:

১।  যারা শক্ত-সমর্থ আছেন তারা সবাই একত্রিত হয়ে রাস্তাঘাটের ওপর উপড়ে পড়া গাছপালা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। এতে সাহায্যকারী দল সহজে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবে।

২। নিজের শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী বিপর্যস্ত মানুষকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করুন। সম্ভব হলে নিজের গ্রামে অন্যদের থাকার সুযোগ করে দিন।

৩। অতিদ্রুত উদ্ধার দল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার করুন।

৪। ভেঙে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি, ছেড়া তার এবং তৎসংলগ্ন জলাবদ্ধতা এড়িয়ে চলুন।

৫। নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ লোকদের নিকট ত্রাণ ঠিকমতো পৌছাচ্ছে কি-না সেটা নিশ্চিত করুন।

৬। পুকুরের বা নদীর পানি সরাসরি না খেয়ে ফুটিয়ে পান করুন। অথবা বৃষ্টির জমানো পানি পান করুন।

৮। কম সময়ে উৎপাদনশীল ধান ও শাক-সবজির জন্য জমি প্রস্তুত করুন, বীজ সংগ্রহ করুন। অতঃপর চাষাবাদ শুরু করুন, যেন যথাসম্ভব দ্রুত ফসল ঘরে আসে।

৯। আহত ব্যাক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

Tags