Hot Widget

Type Here to Get Search Results !

Headline

Notice: To read this website in your country's language, please change the language. Contact us for advertising: +8801516332727 (What's App) Thank you.

নেতিবাচক চিন্তা হতে মুক্ত থাকার উপায়


উদাসীনতা: জীবনের প্রতি ঘৃণা বা উদাসীনতা। মনে হয় অনেক কিছু পাওয়ার ছিল, করার ছিল, হলো না। অতএব এই জীবনটা অর্থহীন। এটাকে বয়ে নিয়ে যেতে হবে, কিন্তু আর কত দিন? কখনও খুশি কখনও উদাসী। সকালে ভালো, বিকালে খারাপ। আজ বেশ আনন্দে আছে কাল মানসিক যন্ত্রণায় গুমরে মরছে। জীবনটাকে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। কখনও ভাবে এই জীবন জীবন নয়। কখনও ভাবে এইতো বেশ আছি, ভালো আছি। কিছু কেউ বলল। যে কেউ কিছু বলুক যদি ভালো বলে তো ঠিক আছে কিন্তু বিরূপ সমালোচনা করলে মেজাজ খারাপ করে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। অন্ধকারকে ভয়, কোনো জন্তু, পোকা, পানি, আগুনের ভয় বা অজানা আতঙ্ক। বার বার হাত-পা ধোওয়া, গোসল করা, ঘ্যান ঘ্যান করা ইত্যাদি।

অহেতুক চিন্তা: আবার অহেতুক চিন্তা ও উত্তেজনা, একটুতেই ঘাবড়ে যাওয়া, একটুতেই ভেঙে পড়া। কাজ করার ইচ্ছা হয় না। উৎসাহের অভাবে অল্প বয়সেই ক্লান্তি অনুভব করা। কাজ করার ক্ষমতা আছে কিন্তু ইচ্ছার অভাবে কিছুই করতে চায় না। অলসতা যেন গ্রাস করে ফেলেছে। এমনকি খেলাধুলা বা পড়াশোনার ক্ষেত্রেও উৎসাহের অভাব হলে বুঝতে হবে ডিপ্রেশন হয়ে আছে। গোসল করা, কাপড় ধোওয়া, খাবার ইচ্ছে ত্যাগ। গোসল করতে চায় না, খেতেও ইচ্ছুক নয় আবার ময়লা পোশাকেই যেন থাকতে চায়, এমতাবস্থায় বুঝতে হবে ডিপ্রেশনে ভুগছে। ঘুমানো। কখনও কম ঘুমায়, কখনও সবসময় শুয়ে থাকতে ভালোবাসে।

হরমোন চেঞ্জ: হরমোনের পরিবর্তন হতে থাকলে ডিপ্রেশন আসে। বয়ঃসন্ধিকালে এই ধরনের অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। নানা চাহিদা। চাহিদার শেষ নেই। একটা পেলে আর একটা চায়। কখনও একটাতে বা একটুতে সন্তুষ্ট নয়। বার বার বিভিন্ন ধরনের আবদার বা বায়না করতে থাকে।

ক্রোধ: যে ধরনের বিচার বা চিন্তা চলবে তা যদি নেতিবাচক বা ব্যর্থ হয় তাহলে ক্রোধ জন্ম নেয়। অনেকে বলেন, ক্রোধ ছাড়া চলে না। এটা ভুল। ক্রোধ শুধু ক্রোধ নয়Ñ এ যেমন নিজেকে জ্বালায়, অন্যকেও জ্বালায়। ফলে, ক্রোধ প্রশমিত হলে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়। ডিপ্রেশনের শিকার হতে হয়। * ইমোশনাল হওয়া ভালো কিন্তু অতি ইমোশনাল ভালো নয়। এ হলো ডিপ্রেশনের লক্ষণ। ইমোশনাল ব্যক্তি বার বার চেষ্টা করে অন্যকে আকর্ষিত করতে। যখন পারে না বা নিজেকে অন্যের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে যখন ব্যর্থ হয় তখন ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয়ে যায়। * আত্মহত্যা হলো মানসিক ব্যাধি যা ডিপ্রেশন থেকে জন্ম নেয়। ডিপ্রেশনের শেষ অবস্থায় পৌঁছলেই মানুষ আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত হয়।

ডিপ্রেশন: যে কোনো বয়সে হতে পারে। ছেলে-মেয়ে, ছাত্র-ছাত্রী, শিশু থেকে বয়স্ক সবাই ডিপ্রেশনের শিকার হয়ে থাকে। ডিপ্রেশনের জন্য আমরাই দায়ী। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যেমন মা-বাবা দায়ী, যুবক-যুবতীদের ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই দায়ী, বয়স্কদের ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজ দায়ী। সব কথার শেষ কথা হল ডিপ্রেশন যেহেতু মানসিক রোগ সেহেতু ওই রোগের আক্রমণকে অনুভব করে, নিজেই নিজের শিক্ষক হতে পারলে বহুলাংশে উপকৃত হওয়া যায়। এছাড়া মনের একাগ্রতা দ্বারা ডিপ্রেশন কেন হচ্ছে যদি বোঝা যায়, মনকে রিড করতে পারলে ডিপ্রেশনের কারণও জানা যাবে। তাহলে যেমন মেডিটেশন তেমনি ভালো ডাক্তারের সুপরামর্শ তাড়াতাড়ি সেরে উঠতে সাহায্য করে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজেকে নিজে লুকানোর বা ঠকানোর চেষ্টা করলে পরবর্তীতে তা বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। তখন কাউন্সেলিং বা স্টেপ বাই স্টেপ ট্রিটমেন্ট, নিয়মিত ব্যায়াম ও রাজযোগ মেডিটেশন অভ্যাস করলে এবং মনকে পরিবর্তন করার পদ্ধতি জানা থাকলে ডিপ্রেশন সহজেই দূর করা যায়।


সুখ-দুঃখ: লক্ষ্য রাখা দরকার সবসময় যেন আনন্দে থাকা যায়। সুখ-দুঃখ টাকার এপিঠ আর ওপিঠ। দুটোকে মেনে নিতে হয়। যেখানে খুশি হারিয়ে যায় সেখান থেকে খুশির পথ খুঁজে নিতে হয়। চিন্তার পরিবর্তন দরকার। বিষাক্ত চিন্তা, ব্যর্থ চিন্তা, নেতিবাচক চিন্তা, অহেতুক চিন্তা, ভয়ের চিন্তা ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকার ব্যবস্থা নিতে হবে। তার জন্য ম্যানেজমেন্টের কথা হলো কথা বলো, শান্ত থাক, ইতিবাচক হও, অন্যকে বদলানো নয় নিজেকে বদলাও। আমাদের মধ্যে যেমন অনেক গুণ আছে তেমনি আবার দোষও আছে। ত্রুটিগুলোকে বার বার স্মরণ না করে গুণগুলোকে স্মরণ করা ও কাজে লাগানো দরকার। * নিজের কাউন্সেলিং নিজে করা দরকার। বিশেষ করে রাত্রে শোবার আগে, সারাদিনের অ্যাকাউন্ট চেক করা এবং পরের দিন পুনরাবৃত্তি যেন না হয় তার প্রতি লক্ষ্য রেখে নতুনভাবে শুরু করা দরকার।

মন: মনের প্রভু তো আমি। মন আমার দাস। তাই মনকে দমন নয় বরং সুমনে পরিবর্তন করা দরকার। কেউ আমাকে বিরক্ত করলে কেন বিরক্ত হব? আমি পারমিশন দিচ্ছি কেন? কারণ মন দুর্বল তাই। মনকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা দরকার। আমি যা আমি তাই। মেনে নিতে হয়। লক্ষ্য মহৎ হলে সফলতা আসবেই। ধৈর্য ও সহনশীলতা কবচ সঙ্গে থাকলে জয় হবেই হবে। এক্সপেক্ট ও রিজেক্ট এই অঙ্ক জানা থাকলে ডিপ্রেশন আসবে না। যুবক-যুবতীরা মাথাকে যত ব্যবহার করবে ততই ভালো থাকবে। যত সিম্পল হওয়া যাবে ততই ডিপ্রেশন মুক্ত থাকা যাবে। অসম্ভব কথাটা আমাদের অভিধানে থাকতে নেই।

নৈতিকতা: নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে সঙ্গে নিয়ে চললে ডিপ্রেশনকে প্রতিহত করা যাবে। ভুলে যাও, ক্ষমা করো এই দুটো শব্দ ডিপ্রেশনমুক্ত জীবনের চাবিকাঠি। সব বোঝা আল্লাহকে সমর্পণ করে দিয়ে মুক্ত মনে থাকতে পারলে ডিপ্রেশন আসবে না। বাহ্যিক সুখ ক্ষণস্থায়ী, সেইজন্য এই সুখে লালায়িত না-হয়ে আন্তরিক সুখের সন্ধানে নিয়োজিত থাকা দরকার। যেমন পানিকে পানি, বরফকে বরফ দেখি তেমনি যা দেখছি, যা শুনছি সেইভাবে দেখা ও শোনা দরকার। অতিশয়তা ভালো নয়। আধ্যাত্মিক হওয়া দরকার। শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের প্রতি একনিষ্ঠ হলে ডিপ্রেশন আসবে না।ক্রোধ থেকে মুক্ত থাকা দরকার। এর জন্য, ভুলকে ঠিক করতে ভুল নয়। হীনতাকে সহযোগী করা উচিত নয়। তর্কে তর্ক বাড়ায় সেইজন্য প্রয়োজনে হার স্বীকার করা ভালো। এই হার হার নয় হারমোনি সৃষ্টি করে।

রোগের চিন্তা: রোগ আসবে কিন্তু রোগী হওয়া ঠিক নয়। রোগ দেহের হয়, চিকিৎসা করা দরকার কিন্তু মন যেমন রোগাক্রান্ত না হয়ে যায়। ক্রোধকে অস্ত্ররূপে ব্যবহার করা দুর্বলতার লক্ষণ। দুর্বল নয় সবল হওয়া দরকার। তিন-চার বার গভীর শ্বাস নিলে ক্রোধ কমে যাবে। শুভ ভাবনার এনার্জি বিকিরণ করা দরকার। নিজের পছন্দমতো সবকিছু সবসময় হবে আশা করা বৃথা। সেজন্য পছন্দমতো যদি না হয় তাহলে ইগোকে ব্রেক করে সবকিছুকে মেনে দেওয়া দরকার।

শ্রদ্ধা: রেসপেক্ট (শ্রদ্ধা) এক প্রকার ইতিবাচক এনার্জি। সবার জন্য সমান হওয়া দরকার সে ছোটো হোক আর বড়ো। মা-বাবারা কীভাবে সন্তানকে ডিপ্রেশন থেকে মুক্ত রাখবেন তার জন্য তাদের ট্রেনিং দিয়ে থাকেন। সেই ট্রেনিং নিতে কার্পণ্য করা উচিত হবে না। বহির্জগৎ, টিভি, ইন্টারনেট, সেল ফোন ডিপ্রেশন সৃষ্টি করে সেজন্য নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এসবের ব্যবহার করা উচিত। অন্যথায় জীবনটাই নষ্ট হয়ে যাবে। সুস্থ জীবন ফিরে পেতে চেষ্টা করা দরকার।

ধর্মীয় বই পড়া: সবচেয়ে ভালো হয় যতটা সম্ভব ধর্মীয় বইগুলো পাঠের অভ্যাস তৈরি করা। এতে করে সুশৃঙ্খল জীবনের পথ অনেকটাই সুগম হয়। ফলে ডিপ্রেশন থেকে মুক্ত থাকা অনেক সহজ হয়। কারণ ধর্মীয় বই মানুষকে সকল অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পালন করে। ফলে সবার মাঝে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। ইতিবাচক মনোভাবের কারণে নতুন করে জীবন কে উপভোগে করার ইচ্ছে তৈরি হয়। যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন তার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন। সত্যিকারের মন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করলে হতাশা আপনাকে ঘিরে ধরতে পারবে না।

সবশেষ সবসময় পজেটিভ চিন্তা করুন। যারা আপনাকে সবসময় পজেটিভ চিন্তা ভবনা করতে সহায়তা করে তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করুন। হতাশা কখনও আপনাকে আকড়ে ধরতে পারবে না যদি আপনি আপনার জ্ঞানকে কাজে লাগাতে সক্ষম হন। আসুন আমরা সকল নেগেটিভ চিন্তা হতে মুক্ত থাকার চেষ্টা করি। আমাদের সবার জীবন হোক অনাবিল সুখ ও স্বাচ্ছন্দের।

সূত্র: সংগৃহীত।

Writer & Editor। Obalardak
E-mail: obalardak@gmail.com
Barishal Sadar, Barishal, Bangladesh
Mobile: +88 01516332727 (What's App)