মোঃ রিসালাত মীরবহর।। আধুনিক যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে মানুষ একে অন্যের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বিভিন্ন রকম সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার করে থাকে। শুধু তাই নয় সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে মানুষ তার নিজেকে তুলে ধরার পাশাপাশি বর্তমানে জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উৎস হিসেবেও ব্যবহার করে আসছে। তাই একথা অবশ্যই বলা যায়, বর্তমান আধুনিক যুগে এসব সোস্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব বেশ অপরিসীম। ফলে সোস্যাল মিডিয়া মানুষকে সবার মাঝে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এক অনন্য মাধ্যম হয়ে দাড়িয়েছে।
একজন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করার পর তার একটি পরিচিতি হয় সবার মাঝে। পরিচিতিটা মূলত ব্যাক্তির কর্মের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। যেমন: কেউ ব্যবসায়ী, কেউ ডাক্তার, কেউ কবি, কেউ অভিনেতা, কেউ আইটি এক্সপার্ট, কেউ তথ্যদাতা, কেউ কৃষক ইত্যাদি বিভিন্ন নানা শ্রেণী ও পেশার মানুষ সোস্যাল মিডিয়ায় কাজ করে থাকেন। শুধু তাই নয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব কনটেন্ট ক্রিয়েটররা দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষকে সেবা দিয়ে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে নানা চড়াই উত্রাই পেরিয়ে তারা তাদের প্রোফাইল কিংবা পেইজ দার করান।
পৃথিবীর শুরু থেকেই মানুষ দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যার একটি ন্যায় আর অন্যটি অন্যায়। মানুষ তার নিজ পছন্দ অনুযায়ী এই দু’ভাগে বিভক্ত। একদল স্বার্থনেস্বী অন্যদল সেবাদানকারী। কেউ মানুষের উপকারে আসে আবার কেউ অপকার করে বেড়ায়। কেউ নিজের স্বার্থে মানুষের অনিষ্ট করে বেড়ায় আবার কেউ নিজের খেয়ে অপর মানুষের উপকারের জন্য অন্যের বনের মোষ তাড়ায়। কে ভালো কে মন্দ তা প্রকাশ পায় তার কর্মে। অর্থাৎ কেউ গাছ লাগাবে ফল খাওয়ার জন্য নিজের সর্বস্ব উজার করে আবার কেউ সেই গাছের ফল রাতের আধাঁরে চুরি করবে মহা আনন্দে।
একটি প্রোফাইল বা একটি পেইজে দিনের পর দিন কাজ করে একটি ভালো জায়গায় নিয়ে আসা যে কতো কঠিন একটি বিষয় তা মনেহয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ছাড়া ভালো আর কেউ জানেনা। কিন্তু অবাক করা বিষয় সেই কষ্টের ফসলে হানা দিতেও ছাড়ে না অনেকে। ফিসিং হচ্ছে তার নাম। সাধারণত ইংরেজী Fish শব্দের অর্থ মাছ। Fishing অর্থ মাছ ধরা। আমরা যদি আরেকটু বুঝিয়ে বলি তাহলে দাড়ায়, মাছ দিয়ে মাছ ধরা। সাধারণত আমরা পুকুর, ডোবা কিংবা নদীতে বড় মাছ ধরার জন্য বরশিতে ছোট মাছ আদার হিসেবে গেঁথে দেই। যাতে বড় মাছটা ভাবে যে খাবার চোখের সামনে ভাসছে। অমনি কপত করে খাবার গিলে ফেললেই সর্বনাশ। বড় মাছটা কে টেনে হিচরে তীরে আনার দায়িত্বটা হচ্ছে সেই মানুষটার যিনি মাছের আদার বরশিতে গেঁথে দিয়েছেন। মাছ ধরার আনন্দটাই অসাধারণ। তিনি তো মহাখুশি। জলের মাছ সুন্দর করে ডাঙ্গায় কিভাবে সাঁতার কাটছে।
এবার আসুন কাজের কথায়। কথা বলছিলাম Fishing অর্থাৎ মাছ ধরা নিয়ে। সোস্যাল মিডিয়ায় এমন অন্ধকার জগতের কিছু মানুষ তৈরি হয়েছে। যারা প্রতিনিয়ত মানুষের ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে। আপনি একটি ভালো কাজ করবেন সেটাকে ধ্বংস করার জন্য তারা উঠে পড়ে লাগবে। তবে যদি খারাপ কিছুর বিরুদ্ধে তারা উঠে পড়ে লাগে তবে আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে সাদুবাদ জানাই। খারাপ কিছু বলতে আমি সেটাকে বুঝাতে চেয়েছি যা মানব প্রকৃতির জন্য অকল্যাণকর। অর্থাৎ জনস্বার্থ বিরোধী কিছু যদি খোয়া যায় তবে সেটাতে তেমন আফসোস নেই। কিন্তু যদি একজন মানুষের সত্যিকার অর্থে ভালো কাজ বা উপকারি কিছু এসব অসাধু ব্যাক্তিদের মাধ্যমে হারিয়ে যায় তবে তা মেনে নেওয়া অনেক কঠিন।
সোস্যাল মিডিয়ার জগতে এমনি এক প্রক্রিয়া Fishing অর্থাৎ মাছ ধরা। সোস্যাল মিডিয়াতে সাধারণত একটি লিংকের মাধ্যমে আপনাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এটি যে কোন ধরনের লিংক হতে পারে। যেমন: ধামাকা অফার সংক্রান্ত, চাকরি সংক্রান্ত কিংবা কোন আর্থিক প্রলোভনের বিষয়ে। অর্থাৎ হঠাৎ চোখে পড়লেই যেন যে কেউ সে লিংকটাতে ক্লিক করে। ব্যাস কাজ শেষ। সোস্যাল মিডিয়ায় থাকা আপনার আইডির নিয়ন্ত্রণ এখন একজন স্বনামধন্য হ্যাকারের হাতে। তিনি হয়ে গেলেন অন্ধকার জগতের রাজা মশাই। আর আপনি হয়ে গেলেন সামান্য একজন গোলাম বা প্রজা। এরপর শুরু হয় দর কষাকষি। আপনার বিভিন্ন রকম ভিডিও কিংবা ছবি দিয়েও শুরু হতে পারে ব্লাকমেইল। আপনার চোখ তো তখন পুরোই ছানাভরা। কি সর্বনাশ। ভাবতেই নিজেকে তখন বড় অসহায় মনে হয়।
এমন প্রতারণার ফাঁদে পা দেওয়ার আগে অবশ্যই ভেবে দেখা উচিত লিংকটি আপনার কোন সর্বনাশ ডেকে আনছে কিনা? বিশেষ করে লিংকটিতে ক্লিক করার আগে কে লিংকটি পাঠিয়েছে তা সনাক্ত করা। যিনি লিংকটি আপনাকে পাঠিয়েছেন তিনি কি আপনার পরিচিত কিংবা বিশ্বস্ত কিনা? আবার অনেক সময় অনেক বিশ্বস্ত মানুষের মাধ্যমেও এধরনের Fishing লিংক ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আগে থেকেই অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় আপনার এতদিনের তিলে তিলে গড়ে ওঠা সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমটির মালিক হয়ে যেতে পারে অন্ধকার জগতের কোন এক হ্যাকার।
লিংকে ক্লিক করার আগে যা মনে রাখতে হবে:
◉ যিনি লিংকটি পাঠিয়েছেন তিনি আপনার বিশ্বস্ত কিনা?
◉ অপরিচিত লিংকের মাধ্যমে ব্যাক্তিগত কোন তথ্য প্রদান না করা।
◉ হঠাৎ অপরিচিত কারও পাঠানো লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকা।
◉ অফার সংক্রান্ত যে কোন লিংকে ক্লিক না করে বরং সেগুলো এড়িয়ে যাওয়া।
◉ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাওয়া ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যতীত কোন লিংকে ক্লিক না করা।
◉ যার লিংকটি ক্লিক করবেন তার প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো রয়েছে কিনা দেখে নেওয়া।
◉ যদি মনে হয় না জেনেই লিংকে ক্লিক করেছেন কিংবা আপনার একাউন্ট হ্যাকিং হওয়ার আশঙ্খায় রয়েছে তবে দ্রুত সম্ভব হলে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে নেওয়া।